বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে মুচির পরিবারের পাশে ডিসি, চিকিৎসা ও জমিসহ ঘর দেয়ার আশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০২২, ৫:৪০ পিএম
চাঁদপুরে মুচির পরিবারের পাশে ডিসি, চিকিৎসা ও জমিসহ ঘর দেয়ার আশ্বাস
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড শাহতলী গ্রামের বাসিন্দা ভূমিহীন চর্মকার কমল চন্দ্র ঋষিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় দেওয়া হবে জমিসহ ঘর করে দেওয়া হবে।
এছাড়াও, কমলকে নগদ পনেরো হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা প্রসাশক অঞ্জনা খান মজলিস।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস ভূমিহীন কমল চন্দ্রের অস্থায়ী বাড়িতে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় ঐ এলাকায় ২ শতাংশ খাস জমির উপর একটি ঘর করে দেয়াসহ তার মায়ের সুচিকিৎসার কথা জানানো হয়। গত কয়েকদিন আগে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে চর্মকার কমল চন্দ্র ও তার পরিবারকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রচার হয়। সেই সংবাদটি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস এর দৃষ্টিগোছর হলে গত বুধবার (২ মার্চ) কমলেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে নেন জেলা প্রশাসক। কমলকে তার মায়ের চিকিৎসা করার জন্য নগদ দশ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেন। এবং তার ঘর মেরামত করে দিবে ও তার মাকে দেখতে যাবেন বলে আশ্বাস দেয় জেলা প্রসাশক অঞ্জনা খান মজলিশ।
সেই সময় কমলের অসুস্থ মা মমতা ঋষির (৬৫) চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এবং ভূমিহীন ও গৃহীত কমলকে ভূমি ও একটি ঘর করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন। এবং কমলকে নগদ আরো পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য করেন। সে সময় ডিসি অঞ্জনা খান মজলিশ সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যম দেখলাম, কমল চন্দ্র ঋষি আক্ষেপ করে বলছিল, জুতা সেলাই করতে পারলেও নিজের কপাল সেলাই করার ভাগ্যটা হয় না।
এ সংবাদ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আমিও দেখেছি। সংবাদটি পড়ার পর পরই আমি তাকে (কমল) আমার কার্যালয়ে এনে তার দুঃখ-কষ্টের কথা শুনি। জানতে পারলাম, সারাদিন জুতা সেলাই করে সে যা আয় করে তা দিয়ে সে তার সংসারের খাবার খরচের টাকাই যোগাড় করতে পারে না।
অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য সে কিছুই করতে পারে না। তার থাকার মতো একটা ঘর নাই। রেলে সরকারি জায়গায় থাকে, যেটা তার নিজের না। আর তার ঘরের অবস্থাও ভালো না। টিনের জায়গায় জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। তার ঘর দেখার পর ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম কি করে তার পুনর্বাসন করতে পারি। এরপর তার জন্য খাস জমি খুঁজে বের করা হয়েছে। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাকে ঘর উপহার দেওয়া হবে। একই সাথে তার মায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছি আমরা। চিকিৎসার জন্য যত অর্থ ব্যয় হবে তা জেলা প্রশাসন বহন করবে।
কমল চন্দ্র বলেন, নগদ পনেরো হাজার টাকা এবং যে ঘর আর জমির শুধু স্বপ্ন দেখেছিলাম তা আজ অপ্রত্যাশিত ভাবে পেতে যাচ্ছি। আমার মেয়ে কয় বাবা তুমি এত টাকা কই পাইচো? এক সাথে এত টাকা কখনো দেখে না। এই সব আমার কাছে স্বপ্নের মত৷ আমি দিন দুইশ টাকা কামাই করতে পারি না৷ সেই জায়গায় আমার জমি হইবো ঘর হইবো। এটা তো আমি শুধু স্বপ্ন মনে করি। আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। এবং আমাদের ডিসি স্যারকে। ডিসি স্যারের মত এত ভালো মানুষ হয় না। তিনি আমার জন্য এত কিছু করেছেন। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা রইলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এবং ডিসি স্যারের প্রতি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা সহকারী পোগ্রামার হারুন অর রশিদ, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকন, ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন খান, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা সহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।