বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভালোবাসার শপথ ভেঙে উধাও স্ত্রী, একা পড়ে বিপাকে সুজন!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ পিএম
ভালোবাসার শপথ ভেঙে উধাও স্ত্রী, একা পড়ে বিপাকে সুজন!
অর্থ সংকটে সুখের খোজে ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রীও চাঁদপুরের পুরানবাজারের সুজন মজুমদার কে ছেড়ে চলে গিয়েছে। সাথে নিয়ে গেছে সাজানো সংসারের সকল আসবাবপত্র ও একমাত্র পুত্র সন্তানটিকেও। কিন্তু এই স্ত্রীই একদিন বলেছিলো-‘জীবনে যাই হয়ে যাক না কেনো-কখনো তোমার হাত ছেড়ে চলে যাবো না’।
৫ এপ্রিল রবিবার কাঁদতে কাঁদতে এমন কথাই এ প্রতিবেদককে জানাচ্ছিলো সুজন মজুমদার।
সরজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরানবাজারের রয়েজরোডে একটি ছোট্ট এক কক্ষের টিনশেড দোকানে চিপস, চকলেট, কেক-বিস্কুট, চা বিক্রি করছেন সুজন। দোকানের মধ্যেই কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে একটি বিছানাও সাজানো রয়েছে। সেখানেই তিনি একা থাকেন।
সুজন মজুমদার (৪৬) হচ্ছেন স্থানীয় মৃত সুখ রঞ্জন মজুমদার ও রেবা মজুমদারের ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ছোট সন্তান। এই ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে ২ ভাই আগেই মারা গেছে। বাকি যারা আছে তারাও তাদের মতো চলছে। বৃদ্ধা মা কখনো ভাই বা বোনের বাসায় থাকেন।
সুজন বলেন, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে বাবা মারা যাওয়ার পর নানান কাজে জড়িত হয়ে আমার আয় রোজগার ভালোই চলছিলো। যুবক বয়সে বলাখাল রামপুরের মেয়ে মুক্তা রানী সাহাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। তখন সে আশ্বস্ত করেছিলো আমাকে যেকোন পরিস্থিতিতেও ছেড়ে যাবেনা।সেখানে আমার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আমি ডিসের লাইনের ব্যবসা করতাম। ২০২০ সালের দিকে ডিসের লাইনের কাজ করতে গিয়ে ২ তলা থেকে অসাবধনতাবশত পরে যাই। আর এতেই জীবন হতে সব এলোমেলো হয়ে গেলো।
সুজন বলেন, আমি দোতলা হতে পরে গিয়ে পা ও মাজা অনেকটা অবশ হয়ে যায়। তখন আমার স্ত্রী যখন আমার সেবা শুশ্রূষায় সর্বোচ্চটা নিয়ে পাশে থাকার কথা। কিন্তু তা না করে সে উল্টো অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে যায়। যাবার সময় আমার অসুস্থ্য মাকেও একা রেখে সে আমার সন্তান তীর্থ মজুমদারকেও নিয়ে যায়। এমনকি ঘরে থাকা সকল মালামালও নিয়ে যায়। পরে ২০২৪ পর্যন্ত আমি অসুস্থ্য ছিলাম। নানান মানুষের সহায়তায় আমি থেরাপী চিকিৎসা করে এখন উঠে বসতে পারি এবং লাঠি ভর দিয়ে ধীরে ধীরে চলতে পারি। এখন মাঝে মাঝে পাশেই থাকা এক ভাইয়ের বাসায় দুপুরে এক বেলা খাওয়া দাওয়া করি। কতিপয় মানুষ আমাকে এই দোকানটা চালাতে কিছু চিপস, চকলেটসহ উপকরণ কিনে দেয়। এখানে এই দিয়েই দোকানে থেকে খেয়ে সময় কাটাচ্ছি ও জীবন যাপন করছি।
সুজন আরও বলেন, আমার এই দোকান ভাড়া ১৮০০ টাকা। এই চিপস ও চকলেট তেমন একটা বিক্রি হয়না। এগুলোর টাকা দিয়ে সারামাসের আয়ে দোকান ভাড়া দিয়ে তেমন কিছুই থাকেন। চরম আর্থিক দুর্বিপাকে সময় কাটাচ্ছি। ইচ্ছে আছে, সমাজের দানবীর বা প্রশাসনিক সাহায্য সহায়তা পেলে দোকানটাতে একটা ফ্রিজ ও বিকাশের ব্যবসাসহ অন্যান্য মুদি মালামাল উঠাবো। এরপর সব জেনে শুনে যদি কোন নারী আমাকে বিয়ে করে তবে তাকে বিয়ে করে আমার জীবনের বাকি পথটুকু চলবো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital