বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘কোনোদিন খাই, কোনোদিন না খেয়ে ঘুমাই’—কান্নাভেজা কণ্ঠে মনোয়ারার আকুতি

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
‘কোনোদিন খাই, কোনোদিন না খেয়ে ঘুমাই’—কান্নাভেজা কণ্ঠে মনোয়ারার আকুতি

বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার কথা ছিল যাদের, অথচ সেই বয়সে এসে জীবন বাঁচানোর এক কঠিন লড়াই করছেন মনোয়ারা বেগম (৬০) ও তার স্বামী হুমায়ন কবির (৭০)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে তাদের জীবন এখন থমকে দাঁড়িয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তিই এখন তাদের জীবিকার একমাত্র পথ, তাও আবার প্রতিদিন জোটে না দুমুঠো অন্ন। দিনভর মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে চলে তাদের সংসার। যেদিন ভিক্ষা মেলে না, সেদিন অভুক্ত থাকতে হয় এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে। এই অমানবিক পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মনোয়ারা বেগম।

জানা যায়, ​কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তর ডুমুরিয়া গ্রামের নতুন বাড়িতে মাত্র ৩ শতক জমির ওপর জরাজীর্ণ বসতঘরে দিন কাটছে তাদের । ১৯৮৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই দম্পতি। সংসারে তিন কন্যা থাকলেও, তারা প্রত্যেকেই বিবাহিত এবং নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। বয়সের এই শেষ সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো ছেলে সন্তানও নেই। মনোয়ারা বেগম ১৯৯৮ সালে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। ২০০৬ সালে তার স্বামী হুমায়ন কবির যিনি চট্টগ্রামের একজন শ্রমিক ছিলেন তিনিও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। অভাবের সংসারের চাকা সচল রাখতে মনোয়ারা বেগম এক সময় অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বর্তমানে অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে তিনিও আর পেরে উঠছেন না।

স্থানীয়রা জানান, এই দম্পতি বর্তমানে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের চিকিৎসাসেবা ও নিত্যদিনের খাবারের নিশ্চয়তা দিতে বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান।

অসহায় মনোয়ারা বেগম বলেন, স্বামীর যখন রুজি করছে তখন ভালা খাইছি, এখন রুজি করতে পারে না ভালো খাইতে পারি না। এখন আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চাই। কোনদিন খেয়েছি আবার কোনদিন না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি । আপনাদের কাছে সাহায্য চাইছি আপনারা কিছু সাহায্য করেন। এই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মনোয়ারা বেগম।

Model Hospital

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, মনোয়ারা বেগম ও হুমায়ন কবির দম্পতির করুণ পরিস্থিতির বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম। একজন সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমি দ্রুতই একজন সমাজকর্মী পাঠিয়ে ওই দম্পতির বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও জীবনমান সরেজমিনে তদন্ত করে দেখব। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি যেসব সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি রয়েছে, তার আওতায় তাদের দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital