শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় ইউপি সদস্য জমিলা খাতুন নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ মার্চ, ২০২২, ৪:১২ পিএম
কচুয়ায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় ইউপি সদস্য জমিলা খাতুন নিহত

মোঃ রাছেল : কচুয়ায় পিকআপ ভ্যানের চাপায়জমিলা খাতুন (৪৫) নামের এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার দুপুরে কচুয়া-সাচার-গৌরিপুর সড়কের সাজির পাড়ের ইউনুছ মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন সাচারগামী একটি দ্রুত গামী পিকআপ ভ্যান সিএনজিকে অতিক্রম করতে গিয়ে সিএনজিকে ধাক্কা দিলে সিএনজিদুমড়ে মুচড়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

ওই সিএনজিতে একমাত্রযাত্রী হিসেবে ছিল উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সদস্য জমিলা খাতুন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত জমিলা খাতুনকে উদ্ধার করে সাচার সেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

সংবাদ পেয়ে সাচার পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল থেকে সিএনজি ও পিকআপ ভ্যান জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। দুর্ঘটনায় পরপরই পিকআপ ও সিএনজি চালক দু’জনই পালিয়ে যায়।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিউদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে ও অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদুপর মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Model Hospital

এদিকে জমিলা খাতুন কচুয়া উপজেলা বাসী নিকট বিশেষ পরিচিত মুখ। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে জমিলা খাতুন সংরক্ষিত আসনের সদস্য নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দী লিপি আক্তার ঘোষিত ফলাফল মেনে নেয়নি। ভোট কারচুপি করে জমিলা খাতুনকে নির্বাচিত করা হয় বলে লিপির অভিযোগ। এব্যাপারে লিপি নির্বাচন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত ভোট পুন: গণনা করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কচুয়া উপজেলার নির্বাচন অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করে। মামলাটি এখন চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় সড়ক দুঘর্টনায় লিপির মৃত্যু কচুয়া বাসীকে বেশ মর্মাহত করেছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’