শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির পথসভা ও লিপলেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ মার্চ, ২০২২, ৪:২০ পিএম
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির পথসভা ও লিপলেট বিতরণ

মাসুদ হোসেন : ভোজ্যতেল, চাল, ডাল ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারসহ নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জনমত গড়তে পথসভা ও লিপলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপিসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠন।

শনিবার (১২ মার্চ) দুপুরে মহামায়া বাজার, পল্লী বিদ্যুৎ, কুমারডুগী, ঘোষেরহাট, শাহাতলীসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রচার কার্যক্রমের লিপলেট বিতরণ করা হয়েছে। পরে ইউনিয়নের ঘোষেরহাট মিয়ার বাজারে সকল নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল মিজির পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক রুবেল হোসেন পাটওয়ারী, সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব গাজী, যুগ্ম আহবায়ক ওয়াসিম হাজী, সদস্য আরিফ তালুকদার, সোহরাব হোসেন কুসুম, ইউনিয়ন শ্রমীকদল নেতা মোঃ আলমগীর হোসেন খান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মোঃ নূরে আলম গাজী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন নয়ন।
বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য এখন এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষকে না খেয়ে থাকতে হবে। বাস ভাড়া বৃদ্ধি সরকারের সাজানো নাটক হিসেবে অভিহিত করে নেতারা আরও বলেন, তাদের দাবি অনতিবিলম্বে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, গ্যাসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে হবে। এই সরকার জনগণের নির্বাচিত নয়, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। এদেরকে অবশ্যই পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে।
৮নং যুবদলের সহ সভাপতি মোঃ মাজহারুল ইসলামের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সফিক কবিরাজ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন তপদার, যুব বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আঃ ছাত্তার বেপারী, মফিজ খান, আরিফ কাজী, মাহবুব আলম বেপারী, জাহাঙ্গীর আলম খান, আঃ আজিজ মিজি, কবির মিজি, জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, বাচ্চু হাজী, মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মজিব কারী, সদস্য ইকবাল খান, মমিন খান, যুবদল নেতা ইব্রাহিম তালুকদার, ফয়েজ পাটওয়ারী, হান্নান পাঠান, আঃ কাদির কাজী, বিল্লাল পাটওয়ারী, আনোয়ার খান, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি রিয়াদ হাজী, সহ সাধারণ সম্পাদক সোহাগ বেপারী, সুজন কাজী, দপ্তর সম্পাদক সাকিলসহ ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’