শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মতলব উত্তর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মতলব উত্তর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মতলব উত্তর উপজেলা শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ১১ জুলাই শনিবার চাঁদপুর জেলা কমিটির এক সভায় জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে সংগঠনের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি রতন চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক রঞ্জীত রায় চৌধুরী যৌথ স্বাক্ষরিত পত্রে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন গঠিত কমিটিতে গণেশ চন্দ্র রায়কে আহ্বায়ক এবং নয়ন দাসকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কানু দত্ত, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গৌতম ঘোষসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নবগঠিত মতলব উত্তর উপজেলা শাখার অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কেশব চন্দ্র দাস, পন্টু দেবনাথ, জোটন দেবনাথ, রতন দাস এবং লিটন চন্দ্র দাস, যুগ্ম সদস্য সচিব বিজয় চন্দ্র রায়, বাপ্পি চন্দ্র দাস এবং সোহাগ বাড়ৈ। সাধারণ সদস্য শ্রী সাধন চন্দ্র দাস, বিপ্লব দাস, সুধন্য বাড়ৈ, সুনীল চন্দ্র দাস, পরিমল দাস, লক্ষণ দেবনাথ, শ্রী মানিক চন্দ্র দাস, মহারাজ সরকার, গোপাল দাস, সুমন মন্ডল এবং বিশ্বনাথ দাস।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার রক্ষা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে এই কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি শক্তিশালী পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দেবে।

Model Hospital

ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

প্রয়াত সাবেক এমপি ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান(৮২) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২৪শে অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি ওপাড়ে পাড়ি জমান।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও সফল অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি  জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
গুণী এই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ প্রয়াণে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।