শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আহলে সুন্নাতের সকল গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ মার্চ, ২০২২, ৪:৪০ পিএম
আহলে সুন্নাতের সকল গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান

মুসলমানদের ঈমান, আকিদা ও আমলকে বিনষ্ট করার জন্য যেভাবে আগ্রাসন চলছে, তা খুবই ভয়াবহ। আহলে হাদিস নাম দিয়ে সম্পূর্ণ হাদিস ও সুন্নাহ বিরোধী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত চলে আসা মুসলমানদের ঈমান, আমল ও আকিদাকে পরিবর্তন করে দিতে মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে আহলে হাদিসরা। তাই আমরা যারা কোরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত অনুসারী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদায় বিশ্বাসী যারা, তাদের আর বসে থাকা যাবে না। ঈমান-আমল বিধ্বংসী মিশনের মোকাবেলায় আমাদের সোচ্চার হতে হবে। আর দ্বিধা-বিভক্তি নয়, আগামী প্রজন্মকে সঠিক আকিদায় প্রতিষ্ঠার জন্যে আহলে সুন্নাতের সকল গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর না হয় আগামী প্রজন্মের ঈমান-আমল ও আকিদাকে ধ্বংস করে ফেলবে সালাফি তথা আহলে হাদিসরা। এর জন্য দায়ী থাকবো আমরা। আল্লাহর আদালত থেকে আমরা বাঁচতে পারবো না যদি আমরা নীরব থাকি।

কথাগুলো বলেছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান। তিনি গতকাল শনিবার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত চাঁদপুর সদর ও পৌর কমিটি গঠনকল্পে আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ড. মাহবুব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতকে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বেশ কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে সভাপ্রধান ছিলেন সদর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি মাওঃ মোঃ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াত চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আনম মুহিবুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু জাফর মোঃ মাইনুদ্দিন, সহ-সভাপতি কাজী মাহবুবুর রহমান ও মাহফুজুর রহমান টুটুল। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াত চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ। মাওলানা মোঃ হাসানুজ্জামানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন পীরজাদা মাওঃ মাহফুজ উল্লাহ ইউসুফী, মোঃ হুমায়ুন কবির, মাওঃ আব্দুর রউফ খান করিম, মাওঃ রবিউল হাসান, মাওঃ জাফর আলী, মাওঃ আব্দুল মান্নান, গাজী মোঃ আব্দুর রাহিম, মাওঃ আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন, মোঃ আব্দুল্লাহ আল-আমিন সাকি প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও নাতে রাসূল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাদ জোহর দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াত চাঁদপুর সদর ও পৌর কমিটি গঠন করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরবর্তীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়। সবশেষে মিলাদ-কিয়াম ও দোয়া, মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল সম্পন্ন হয়।

Model Hospital

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’