শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায় ও বিএনপি; মাঈনুল হোসেন খাঁন নিখিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ মার্চ, ২০২২, ৪:৫৫ পিএম
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায় ও বিএনপি; মাঈনুল হোসেন খাঁন নিখিল

মনিরুল ইসলাম মনির : বিএনপি-জামায়াত নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে, তারা শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে বলে উল্লেখ করে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খানঁ নিখিল বলেন, ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে এ ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আর অন্যদিকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায়েত ইসলাম। জামায়েত ইসলামের অনুসারী হচ্ছে বিএনপি।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। যেটি সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত হচ্ছে, নন্দিত হচ্ছে।

মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল শনিবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজ মাঠে ব্যাচ’১৯৭৯ এর পক্ষ থেকে শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশকে আরও উন্নত সমৃদ্ধ করতে হলে তরুণ মেধাবীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরও বেশি দক্ষ হতে হবে, প্রযুক্তিতে আরও বেশি সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার চিন্তা করছে মানুষ এখন, এই সময়ে প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলে কোনদিনই এ দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে না। সেজন্য মেধাবীদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যার মাধ্যমে তারা নতুন ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি নিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

Model Hospital

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল বলেন, এ দেশটিকে তোমাদের ভালবাসতে হবে, দেশের মানুষকে ভালবাসতে হবে। সূর্যের মত তোমাদের আলোয় সবাইকে আলোকিত করবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে নিজেদের জীবনকে গড়বে। তোমাদের মেধা, কাজ ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবে।

শনিবার (১২ মার্চ) সকালে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজ মাঠে ব্যাচ’১৯৭৯ এর পক্ষ থেকে শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ব্যাচ’১৯৭৯ এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজ সভাপতি এবং ব্যাচ’১৯৭৯ এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী আলহাজ্ব মাঈনুল হোসেন খাঁন নিখিল। ব্যাচ’১৯৭৯ এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম এবং নিশ্চিন্তপুর কলেজের প্রধান সহকারী হাবিবউল্লাহ প্রধানের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন শিক্ষক এইচএম জিলানী, প্রাক্তন শিক্ষক মোর্শেদ আলম, প্রাক্তন শিক্ষক মোশারফ হোসেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন হোসেন সুফল, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুজাম্মেল হক, দূর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব হোসেন প্রধান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান জহির, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান ইয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সাখোয়াত হোসেন সরকার মুকুল, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব অ্যাড. আক্তারুজ্জামান, বাগানবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ষাটনল ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকারসহ ব্যাচ’১৯৭৯ এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় নিশ্চিন্তপুর স্কুলের ৬জন শিক্ষককে সম্মাননা ও ৮জন প্রয়াত শিক্ষককে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’