শাহরাস্তিতে ক্লাস না নেওয়া ও অনুপস্থিতির অভিযোগে ৪ শিক্ষককে শোকজ
নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা, শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বঞ্চিত করা এবং বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হাজেরা বেগম, প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস আকন্দ, সহকারী মৌলভী মাহমুদা আক্তার এবং সহকারী শিক্ষক মোছা. খুরশিদ জাহান। মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর নবম ও দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস চলাকালে নির্ধারিত সময়ে পাঠদান না করার অভিযোগ ওঠে।
এ সময় শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্লাস না নেওয়া ও সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে, সহকারী মৌলভী মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে গত ১৯ অক্টোবর এবং সহকারী শিক্ষক মোছা. খুরশিদ জাহানের বিরুদ্ধে ১৯ ও ২০ অক্টোবর ছুটি বা পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক হাজেরা বেগম ও জান্নাতুল ফেরদৌস আকন্দের বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা নোটিশ ও বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়ে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব অধ্যক্ষের দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধি মোতাবেক বেতন কর্তনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত করা কিংবা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জবাব পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।








