মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ক্লাস না নেওয়া ও অনুপস্থিতির অভিযোগে ৪ শিক্ষককে শোকজ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ পিএম
শাহরাস্তিতে ক্লাস না নেওয়া ও অনুপস্থিতির অভিযোগে ৪ শিক্ষককে শোকজ
শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা, শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বঞ্চিত করা এবং বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হাজেরা বেগম, প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস আকন্দ, সহকারী মৌলভী মাহমুদা আক্তার এবং সহকারী শিক্ষক মোছা. খুরশিদ জাহান। মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর নবম ও দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস চলাকালে নির্ধারিত সময়ে পাঠদান না করার অভিযোগ ওঠে।
এ সময় শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্লাস না নেওয়া ও সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে, সহকারী মৌলভী মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে গত ১৯ অক্টোবর এবং সহকারী শিক্ষক মোছা. খুরশিদ জাহানের বিরুদ্ধে ১৯ ও ২০ অক্টোবর ছুটি বা পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক হাজেরা বেগম ও জান্নাতুল ফেরদৌস আকন্দের বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা নোটিশ ও বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়ে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব অধ্যক্ষের দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধি মোতাবেক বেতন কর্তনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত করা কিংবা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জবাব পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।