বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কাতার যাওয়ার স্বপ্ন ছিল ১২ দিন পর, তার আগেই সড়কে ঝরল তরিকের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম
কাতার যাওয়ার স্বপ্ন ছিল ১২ দিন পর, তার আগেই সড়কে ঝরল তরিকের প্রাণ

স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আগামী ১৫ নভেম্বর কাতারের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা ছিল ৩২ বছর বয়সী মো. তরিকের। পরিবারের আশা ছিল, প্রবাসে উপার্জন করে একদিন সুখের মুখ দেখাবেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তাঁর জীবনপ্রদীপ।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন তরিক (৩২) নামের ওই যুবক। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তরিক মতলব দক্ষিণ উপজেলার ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার মেনাপুর গ্রামে মামাশ্বশুরের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তরিক। পথে মেনাপুর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

Model Hospital

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তাঁর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি মোস্তাফিজুর রহমান (২২)। তাঁর বাবার নাম বাবুল প্রধানিয়া এবং মায়ের নাম শাহিনুর বেগম। তাঁর বাড়ি মকুন্দশার গ্রামে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পংকজ জানান, ওই যুবককে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৫ নভেম্বর কাতার যাওয়ার কথা ছিল তরিকের। বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়েছিল। তাঁকে ঘিরে স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল। পরিবারের অভাব ঘুচিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্বজনেরা।

কিন্তু কাতার যাওয়ার মাত্র ১২ দিন আগে একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তরিকের প্রাণ। পরিবারের সেই স্বপ্ন এখন শুধুই হাহাকার। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তরিকের মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন ছাড়াও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।