বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় ফুটপাত হকারদের দখলে, চরম বিপাকে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম
কচুয়ায় ফুটপাত হকারদের দখলে, চরম বিপাকে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা

চাঁদপুরের কচুয়া উত্তর বাজারের ফুটপাত ও চলাচলের রাস্তা অবৈধ হকারদের দখলে চলে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনা করা স্থায়ী ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাণিজ্যে ধস নেমেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , কচুয়া উত্তর বাজারের পল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় ৩০ থেকে ৪০টির অধিক অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ১০টি ফলের দোকান, ১২টি কাপড়ের দোকান এবং ৬টি চায়ের স্টল সহ অন্যান্য দোকান রয়েছে। রূপসী বাংলা হোটেল থেকে শুরু করে জয় ভ্যারাইটিজ স্টোর পর্যন্ত দীর্ঘ ২০০ গজের বেশি জায়গা জবরদখল করে এই ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিগত ৫-৬ বছর ধরে এভাবে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসলেও স্থায়ী ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িতই হচ্ছে।

ভুক্তভোগী স্থায়ী ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ফুটপাতের ওপর এসব অবৈধ দোকান বসার কারণে ক্রেতারা সহজে দোকানে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বাজারের স্থায়ী ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র ঘোষ আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম (অ্যাডভান্স) দিয়ে দোকান নিয়েছি এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করছি। অথচ দোকানের ঠিক সামনেই অবৈধভাবে হকাররা বসে আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই! আমরা এর দ্রুত প্রতিকার চাই।

Model Hospital

এদিকে ফুটপাত দখল ও ব্যবসায়ীদের সংকটের বিষয়ে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তরিকুল ইসলাম  মুঠোফোনে জানান, আমি দেশের বাহিরে আছি, দেশে আসার পর ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখবো। ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদের বাজার ব্যবসায়ী ও প্রশাসনকে নিয়ে দ্রুত এর সমাধান করবো।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, অতিদ্রুত ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদের জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। খুব শীঘ্রই আমরা অভিযান পরিচালনা করবো।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।