বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান, ৮ প্রতিষ্ঠানকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
ফরিদগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান, ৮ প্রতিষ্ঠানকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর বাজারের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসন এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফুটপাত দখল ও নানা অনিয়মের দায়ে বনফুল, রাহা হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ ও পিপাসা হোটেলসহ মোট আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদগঞ্জ পৌর বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. মেহেদী হাসান মানিক।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে কেরোয়া মোড় হয়ে থানা চত্বর পর্যন্ত মূল সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল একটি মহল। ফল ও চা-পাকড়ার দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টের বর্ধিত স্থাপনা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পৌরসভার ট্রাকে করে মালামাল জব্দ করা হয়। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা নেই, তাদেরকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা হালনাগাদ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে আইনগত সহায়তা প্রদান করেন ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল আমিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খাঁন ও উপজেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক খোকন চন্দ্র শীলসহ পৌর ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা এবং জনদুর্ভোগ লাঘব করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। জনগণের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে প্রশাসনের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাঁড়াশি অভিযানে বাজারের সাধারণ পথচারী ও ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তাঁরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।