শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ৫০ কৃতি ছাত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২, ৩:০৩ পিএম
চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ৫০ কৃতি ছাত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান
স্টাফ রিপোর্টার : ”উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম-ই একমাত্র সমাধান” এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থী (ছাত্রী) সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় শহরের তালতলা আল কারীম একাডেমী ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন।

তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের উচিত সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। কারণ সুশিক্ষিত না হলে তোমাদের দ্বারা সমাজে আলো ছড়াবে না। একজন শিক্ষিত, বিবেকবান, আদর্শ শিক্ষার এটি কোন চরিত্র হতে পারেনা যে, সে যা পাবে তাই পকেটে ভরে নেবে। একজন ভাল শাসক ও প্রশাসকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপকৃত হয়। মেধাবীরাই আগামী দিনে দেশের দায়িত্ব নিবে। উপকার প্রাপ্তি ব্যক্তিদের অন্তর থেকে সেবাদানকারীদের প্রতি দোয়া যায়।

Model Hospital

প্রধান অতিথি আরো বলেন, বাংলাদেশ আমাদের, লাল সবুজের পতাকা আমাদের। এই অর্জনের জন্য প্রচুর মূল্য দিতে হয়েছে। তাই এ দেশটি সুন্দর ভাবে পরিচালিত করতে আমাদের সকলের অংশগ্রহণ থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তোমাদের পুথিগত বিদ্যার সাথে নৈতিকতার সমন্বয় থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা পূরণ হবে। বর্তমান বিশ্বে ইসলামী শিক্ষার অভাবে দাম্পত্য জীবনে কলহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আদর্শবান হয়ে শিষ্টাচার বহির্ভূত কোন কাজ করা যাবে না। তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমরা ভাল হলেই দেশটা ভালোভাবে পরিচালিত, ভালো হয়ে যাবে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষন কেন্দ্রীয় সদস্য মারজান কুবরা ও সূরা সদস্য হাফেজা নুসাইব আক্তার।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক আজাদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিএইড এর পরিচালক হাফিজ আল আসাদ (বাবর) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি গাজী মুহাম্মদ হানিফ।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার তথ্য গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক ডি এম ফয়সাল, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ রাকিব হোসেন, আলিয়া মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ আক্তার হোসেন আকন, স্কুল ও কলেজ বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ ইমরান হোসেন মামুন, সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান।

উল্লেখ্য,গত ১১ মার্চ শুক্রবার চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নবীন আলেম ও কৃতি শিক্ষার্থী (ছাত্র) সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কলেজ-মাদ্রাসার এইচএসসি ২০২১ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫০ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের (ছাত্রী) এদিন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিগণ মেধাবী ছাত্রীদের হাতে তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
সবশেষে প্রধান অতিথি দোয়া ও মোনাজাত এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’