শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের দেওয়াল ভাংচুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২, ৩:২৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের দেওয়াল ভাংচুর

এস এম ইকবাল : ককটেল বিস্ফোরন, মারধর ও বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা এবং নির্মাণাধীন বসত ঘরের দেওয়াল ভাংচুর করায় নাজমা বেগম নামে এক বিধবা থানায় লিখিত অভিযোগ করছেন।

২৩ মার্চ বুধবার সকালে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা এলাকার খান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বিধবা নাজমা বেগমের প্রায়ত স্বামীর জায়গায় একই এলাকার মৃত মতিন গাজীর ছেলে মোঃ আঃ গনী গান্ধী (৬০), মৃত ছোবহান পাটওয়ারীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী (৪০), মৃত- হামিদ খানের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম খান (৫০), সাইফুল ইসলাম খানের স্ত্রী মোসাঃ ফাতেমা বেগম (৩৫), মৃত হামিদ খানের ছেলে মোঃ মফিজ উদ্দিন (৪৫), মো. বাসু মিজির স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০) তাদের সম্পত্তি দাবি করে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে নাজমা বেগমের বসত ঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ করে আতংক সৃষ্টির পর নির্মাণাধীন বসত ঘরের দেওয়াল ভাংচুর, নাজমা বেগম ও মেয়েদের মারধর করে এবং বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে প্রভাব বিস্তার করে।

বিধবা নাজমা বেগম জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তার প্রতিবেশী অভিযুক্তরা আমার স্বামীর সম্পত্তি তাদের দাবী করে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত মারধর, গালমন্দ বসত ঘর ভাংচুর করে আসছে। সর্বশেষ তারা বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে আমার বসত ঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ করে আতংক সৃষ্টির পর, আমি এবং আমার মেয়েদের মারধর করে। পরে তারা আমার নির্মানাধীন বিল্ডিং এর দেওয়াল ভাংচুর করে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি এবং এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।

Model Hospital

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, অভিযুক্তরা প্রতিনিয়ত এই অসহায় বিধবার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এভাবে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে অসহায় নাজমা বেগম ও তার মেয়েদের মারধর এবং বসত ঘরে হামলা চালিয়ে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন প্রভাবশালীরা।

আব্দুল গনী গাজী গংদের এমন অমানবিক অত্যাচারে খুবই আতঙ্কের সাথে দিনযাপন করছেন অসহায় নাজমা ও তার পরিবারের লোকজন। প্রভাবশালী দের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলতে চাইলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তদন্তকারী অফিসার এস.আই বরকত উল্লা জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’