শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে আগুনের লেলিহান শিখায় শতশত লোকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২, ৪:২৭ পিএম
হাইমচরে আগুনের লেলিহান শিখায় শতশত লোকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচরে আগুনের লেলিহান শিখায় শতশত লোকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই।
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ২টি বসত ঘর সহ বাজারের ৭০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মিভূত হয়ে গেছে।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যবসায়ীদের শান্তনা দেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হুমায়ুন প্রধানীয়া।
২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টায় চরভৈরবী বাজারের ইসলামিয়া হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে চাঁদপুর ও রায়পুর ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। চাঁদপুর ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক শাহিন আলম অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চরভৈরবী ইউনিয়নের নদীর পাড় মাছঘাট সংলগ্ন বাজারে আগুন লেগে প্রায় ৭০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান এতে তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে বিনষ্ট হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দোকানে প্রচুর মাল তোলা হয়েছিল। আগুনে পুড়ে  ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পুজি হারিয়ে পথে বসেছে ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যবসায়ী ফাহিমা আক্তার বিনা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তিল তিল করে জমানো একমাত্র সম্ভল আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ব্যাংকের লোন সংসার কি করে চলবে। এটা ভাবতেই বুকটা ফেটে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমার ভাই সৈয়দ আহমেদের কসমেচিক্স ও মোবাইলের দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। আমাদের ৩ দোকানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। সরকার যদি আমাদেরকে সহযোগীতা না করে ছেলে সন্তান নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হুমায়ুন প্রধানীয়া বলেন, ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের সময় হঠাৎ চরভৈরবী বাজারে আগুন লেগে বাজারের ৭০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে চাই হয়েছে। আমরা ধরনা করছি এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এসকল ব্যবসায়ীরা সব হারিয়ে পথে বসেছে। আমরা সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যবসায়ীদের জন্য সহযোগীতা কামনা করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’