শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নাউরী উবি ও লবাইকান্দি মাদ্রাসা সেমিফাইনালে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২, ৩:৪৫ পিএম
মতলবে বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নাউরী উবি ও লবাইকান্দি মাদ্রাসা সেমিফাইনালে
মতলব উত্তর ব্যুরো :  মতলব উত্তর উত্তর উপজেলায় বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নাউরী আহম্মদীয়া উবি ও লবাইরকান্দি আল-আমিন মাদ্রাসা সেমিফাইনালে উন্নীত হয়।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ১ এপ্রিল শুক্রবার উপজেলা মাঠে দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৪ উইকেটে শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উন্নীত হয়।

শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় টসে জিতে ব্যাটিংএর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাটিং করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে ইস্রাফিল ৪৮ ও রাকিব ২৭ রান করে। নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাকিব দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট লাভ করে।

নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষে ব্যাটিং করে জিহাদ ৪৭, নিরব ৩১ রান করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখে।

Model Hospital

খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করে রবীন ও বাপ্পি এবং স্কোরারের দায়িত্বে ছিলেন মিরাজ। টুর্নামেন্টে ৪৭ টি দল অংশ গ্রহন করে।

উপজেলা মাঠে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের ২য় দিনের খেলার শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি গাজী শরীফুল হাসান।

খেলায় মাঠে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক প্রভাষক একেএম আজাদ, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ইবনাল মঈন আহমেদ রিপন, সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মনিরুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম,  উপজেলা স্কাউটের সাধারন সম্পাদক আক্তার হোসেনসহ স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।

দিনের ২য় কোয়ার্টার ফাইনালে কালিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও লবাইরকান্দি আল-আমিন মাদ্রাসা।
টসেজিতে লবাইরকান্দি আল-আমিন মাদ্রাসা ব্যাটিংএর সিদ্ধান্ত নেয়। উদ্বোধনী জুটি ১২ ওভারে ১৩৭ রান করে।উদ্বোধনী ব্যাটর্সম্যান রায়হান ব্যাক্তিগত ৪২ রান করে আউট হয়। ৯টি ছক্কা ও ৮ টি চারের মাধ্যমে ম্যাচে সাব্বির আহমেদ ১১০ রান করে রানআউট হয়। তাদের দলীয় সংগ্রহ ১৯১ রান।

জবাবে কালিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ১৩৬ রানে অল আউট হলে লবাইরকান্দি আল-আমিন মাদ্রাসা ক্রিকেট দল ৫৫ রানে জয়লাভ করে। কালিপুরের পক্ষে সানি ২৬ ও মারুফ ২১ রান করতে সক্ষম হয়।

দিনের ২য় কোয়ার্টার ফাইনালের খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করে সুজন ও রবীন এবং স্কোরারের দায়িত্ব পালন করে মিরাজ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’