শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় আবুল বাশার হত্যাকান্ডের মুলহোতা মুসা গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২, ১:২৯ পিএম
কচুয়ায় আবুল বাশার হত্যাকান্ডের মুলহোতা মুসা গ্রেফতার

মোঃ রাছেল : কচুয়ায় পৌর বাজারে অবস্থিত ইকরা ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধীকারী আবুল বাশার (৩৮) হত্যাকান্ডের মুলহোতা আসামি আবু ছালেহ মুসাকে (২০) গ্রেফতার করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মুসা কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া গ্রামের ইব্রাহীমের পুত্র।

কচুয়া থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন জানায়, গত রবিবার রাতে কচুয়া থানা পুলিশ আবু ছালেহ মুসাকে পাশ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার আলেখারচর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে কচুয়া থানায় নিয়ে আসে। পরে গতকাল সোমবার চাঁদপুরের কচুয়া আমলী আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করার মধ্য দিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আবু ছালেহ মুসা আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবুল বাশারকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে।

গত শনিবার দুপুরে আবুল বাশার দোকানে আসার জন্য নিজ বাড়ি কচুয়া পৌরসভাধীন কোয়া চাঁদপুর হাজী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত সে দোকানে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজি শুরু করে। রাত ১০টার দিকে তার নিখোঁজের বিষয়ে কচুয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে শনিবার রাত ৩টার দিকে কচুয়া বিশ্বরোডে অবস্থিত মুসার মাছের আড়তে আবুল বাশারের রক্তভেজা লুঙ্গি, গামছা ও একটি বিছানার চাদরসহ দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন দেখতে পায়। পরে কচুয়া থানা পুলিশ রবিবার বিকেল ৩টায় দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামে একটি বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশের সন্ধ্যান পায়।

Model Hospital

এদিকে গতকাল সোমবার আবুল বাশারের নিজ গ্রাম এলাকার লোকজনরা আবুল বাশারের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কোয়া চাঁদপুর গ্রাম থেকে শুরু হয়ে কোয়া,উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন, কচুয়া বিশ^রোড, পৌর বাজার ও কচুয়া থানা এলাকা প্রদিক্ষণ করে।

ওই দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আবুল বাশারের লাশ তার নিজ গ্রামে নিয়ে আসা হলে তার আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী মধ্যে গগনবিদারী কান্নার রোল শুরু হয়। পরে বাদ জোহর কোয়া-চাঁদপুর পশ্চিম হাজী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে শতশত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’