শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে জনতা ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাঁও জালিয়াত চক্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২, ২:১৫ পিএম
মতলব উত্তরে জনতা ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাঁও জালিয়াত চক্র

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর বাজার জনতা ব্যাংক লিঃ এর শাখা থেকে ভুয়া রেমিটেন্স ও এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে জালিয়াতি চক্র।

সোমবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুয়া কাগজপত্র যাচাই বাছাই এবং কম্পিউটারে পোষ্টিং না করেই ব্যাংক কর্মকর্তা টাকা প্রদান করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে (ভূয়া কাগজপত্র অনুযায়ী), মোঃ কামাল, পিতা মোঃ জালাল, গ্রাম লুধুয়া নামে এক ব্যক্তি ভুয়া এনআইডির ফটোকপি ও তাতে ৯৫ হাজার ৬৪০ টাকার অংকের ট্রান্সফাস্টের পিন নম্বর ৩৩টিএফ০৭৬৪১৮৮৩৫ যুক্ত একটি ভুয়া কাগজ উপস্থাপন করেছেন।

একই সাথে আশরাফ, পিতা লেহাজ উদ্দিন, গ্রাম লুধুয়া, ট্রান্সফাস্ট পিন নং ৩৩টিএফ০৭৬৪১৮৮২৭, ৯৯ হাজার ৯২০ টাকা। বিল্লাল, পিতা মাজেদ, গ্রাম লুধুয়া, ট্রান্সফাস্ট পিন নং ৩৩টিএফ০৭৬৪১৮৮২২, ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা। ফারুক, পিতা কাদির, গ্রাম পশ্চিম দূর্গাপুর, ট্রান্সফাস্ট পিন নং ৩৩টিএফ০৭৬৪৮৮২০, ৯৭ হাজার ৬৪০ টাকা ও আবুল, পিতা জানে আলম, গ্রাম পশ্চিম দূর্গাপুর, ট্রান্সফাস্ট পিন নং ৩৩টিএফ০৭৬৪১৮৮৩০, ৯৫ হাজার ৬০০ টাকার ভুয়া রেমিটেন্স রিসিট ও ভুয়া এনআইডি ফটোকপি জমা দেন সিনিয়র অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলামের কাছে। তিনি যাচাই বাছাই না করেই ক্যাশে গিয়ে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা ওই পাঁচজন ব্যক্তিদের প্রদান করে দেন।

Model Hospital

ঘটনার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। পরে ব্যাংকে গিয়ে জানা গেছে, সিনিয়র অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম কম্পিউটারে অনলাইনে পোষ্টিং না দিয়ে এবং কাগজপত্র যাচাই বাছাই না করে ক্যাশে গিয়ে ওই ব্যক্তিদেরকে টাকা প্রদান করেছেন। পরবর্তীতে এই কাগজপত্র কম্পিউটারে পোষ্টিং দেওয়ার জন্য ধরা খায় যে, উপস্থাপনকৃত রেমিটেন্স স্লিপ ও এনআইডি কার্ডের ফটোকপি জাল।

ঘটনার পর চাঁদপুর জোনাল অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে টাকা গ্রহীতা ৫ জনকে দেখা গেলেও কেউ চিনতে পারেনি কেউ। ফুটেজে দেখা যায় ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে সুশান্ত থাকলেও ভিতরে গিয়ে ওই ৫ জনের হাতে টাকা প্রদান করেছেন সিনিয়র অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে জনতা ব্যাংক সুজাতপুর বাজার শাখার ব্যবস্থাপক অঞ্জন কুমার তহসীলদার বলেন, এটা ব্যাংকের ভিতরগত সমস্যা। এটা মিডিয়ায় না আসলে আমাদের উপকার হয়। তিনি এর বেশি কিছু বলতে নারাজ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’