সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে তরমুজ ক্ষেতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত; লোকসানে চাষী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২, ৪:৪০ পিএম
মতলব উত্তরে তরমুজ ক্ষেতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত; লোকসানে চাষী

মতলব উত্তর ব্যুরো : চলতি বছরের মার্চ মাসের বৃষ্টি ও বৃষ্টি পরবর্তী খরায় ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে মরে যাচ্ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ওটারচর গ্রামের কৃষক ও উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকারের ১৫ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক সুইট গ্রীন তরমুজ গাছ। কোথাও কোথাও গাছ সবল থাকলেও নেই ফলন এবং কিছু গাছে ফলন আসলেও দেখা দিয়েছে পচন। এমন ফলন বিপর্যয়ে লোকসানের আশঙ্কা করছে কৃষক আতাউর রহমান সরকার। এমন ঘটনাকে স্থানীয় কৃষিবিদরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মনে করছেন। তারা আবহাওয়া উপযোগী ও আগাম বীজ বপনের পরামর্শ দিয়েছেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, মার্চ মাসে বৃষ্টি হলে অধিকাংশ জমিতে পানি জমে যায়। এর পরপরই দেখা দেয় খরা। খরায় বৃষ্টির পানি শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেতের তরমুজের গাছগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কোনো জমিতে লবণাক্ত বেড়ে গিয়েও ঝলসে যাচ্ছে গাছ। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জমিতে গাছগুলো সবুজ ও বেশ ভাল গজালেও নেই ফুল বা ফল। কিছু কিছু স্থানে ফলন হলেও পরিমাণে কম ও আকারে অনেক ছোট হয়েছে। তরমুজ গাছে ছত্রাক ও ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন কোম্পানির বালাইনাশক ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার পায়নি কৃষক আতাউর রহমান সরকার।

কৃষক ও উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকার বলেন, মতলব উত্তরে তরমুজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তরমুজের প্রচুর চাহিদার দিকটি বিবেচনা করেই আমি নিজ উপজেলায় তরমুজ চাষ পরীক্ষণের পর কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য গত বছরে এমন প্রকল্প হাতে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পড়াশোনা ও অন্যান্য ব্যস্ততার জন্য নিতে পারি নাই। তবে এ বছর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন স্যারের সাথে বিষয়টি আলোচনা করলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ওঠারচর গ্রামে ১৫ শতাংশ জমিতে একটি পরীক্ষণ প্রদর্শনী স্থাপন করি। তবে জমিতে ফুলকপি থাকার কারণে প্রকল্প স্থাপনে একটু বিলম্ব হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জমি তৈরি মালচিং ফ্লিম বিছিয়ে সরাসরি বীজ রোপণ করি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শতভাগ বীজ অন্কুরোদগম না হওয়ায়, সিডলিং ট্রেতে উৎপাদিত চারা রোপণ করে গ্যাপ ফিলিং করি। প্রথম দিকে চারা একটু নড়বড়ে থাকলেও বেশকিছু দিন পরই জমি সতেজতায় আমি মুগ্ধ হই।

এসময় আমাকে সর্বক্ষণিক পরামর্শ ও সাপোর্ট দিয়েছেন ছেংগারচর পৌর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেদোয়ান আদনান মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন।

Model Hospital

সকলের পরামর্শে আমি জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা, ফেরোমন, হলুদ ট্রাপ ব্যবহার করি। আমার গাছগুলোর বৃদ্ধি ছিল সন্তোষজনক। প্রথম দিকে গাছের ফলগুলোতে আশার আলো দেখতে ছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মার্চ মাসের বৃষ্টি ও বৃষ্টি পরবর্তী খরায় ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে এবং পোকার আক্রমণে মরে যাচ্ছে আমার ক্ষেতের তরমুজ গাছ গুলো। কোথাও কোথাও গাছ সবল থাকলেও নেই ফলন।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, সঠিক সময়ে তরমুজের বীজ রোপন করতে পারেনি এবং মার্চ মাসের বৃষ্টি ও বৃষ্টি পরবর্তী খরায় ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে এবং পোকার আক্রমণে তরমুজের মরে যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে।

‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় একমাত্র উপার্জনকারী শুকুর আলম হাসপাতালে, চিকিৎসায় সহযোগিতা চাইলেন চেয়ারম্যান স্বপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০০ পিএম
‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় একমাত্র উপার্জনকারী শুকুর আলম হাসপাতালে, চিকিৎসায় সহযোগিতা চাইলেন চেয়ারম্যান স্বপন

একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশা—সবকিছুই যেন আজ থমকে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী শুকুর আলম মজুমদার কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন ৪ নম্বর কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মানবিক আবেদন জানান।

আবেদনে চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন উল্লেখ করেন, হাজীগঞ্জ উপজেলার ভাটরা গ্রামের বাসিন্দা শুকুর আলম মজুমদার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

এ অবস্থায় এলাকার বিত্তবান, হৃদয়বান ও মানবিক মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী শুকুর আলমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Model Hospital

চেয়ারম্যানের আবেদনে বলা হয়, মানুষের সামান্য সহযোগিতাও এই কঠিন সময়ে শুকুর আলমের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, এ ধরনের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে আহত শুকুর আলমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন।

যেভাবে সহযোগিতা করবেন

শুকুর আলম মজুমদারের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা পাঠাতে তাঁর পরিবারের বিকাশ নম্বর:

বিকাশ: 01871660298

আসুন, বিপদের এই কঠিন সময়ে আমরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াই। আমাদের সামান্য সহযোগিতায় হয়তো একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পথ সহজ হবে, ফিরে আসবে একটি পরিবারের মুখে হাসি।

মানুষ মানুষের জন্য—মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিন।