শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২২, ৭:৪৩ পিএম
চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঝাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে চাঁদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বাবুরহাট চাঁদপুর পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পুলিশ লাইনসে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রশাসনিক, বিচারক বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ চাঁদপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

ইফতার ও দোয়া মহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওমীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমজান মাস মুসলমানদের সিয়াম সাধানার মাস। এ মাসে মুসলমানরা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের পবিত্র করে তোলে। আসুন এই পবিত্র রমজানে আমরা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে শপথ নেই যে চাঁদপুর জেলাকে একটি সুন্দর জেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে আমরা করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। শেখ হাসিনা সুখে দুখে সব সময় মানুষের পাশে থাকে ছিল আছে এবং থাকবে। একমাত্র শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। তাই তাই বার বার দরকার শেখ হাসিনা সরকার।

Model Hospital

চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম-বার এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক এম আর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিয়াউর রহমান, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডাঃ মোঃ নাসিম আকতার, সিজিএম চাঁদপুরের মোঃ সামছুল ইসলাম, নারী ও শিশু জজ জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী, নৌ পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান, রাব -১১ এর কোম্পানি কমান্ডার সাকিব হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর- মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারী, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওচমান পাটোয়ারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, সিভিল সার্জন শাহাদাৎ হোসেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহবুবুল আলম লিপন, শাহরাস্তি পৌরসভা মেয়র আব্দুল লতিফ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান, ফরিদগঞ্জ পৌর সভার মেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারী, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মিলন সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শহীদ পাটোয়ারী, ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাবেক সাধারন সম্পাদক রহিম বাদশা, সাবেক সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদপুর খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, দৈনিক চাঁদপুর সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুর রহমান, আলোকিত চাঁদপুরের সম্পাদক ও প্রকাশক জাকির হোসেন, প্রিয় চাঁদপুরের সম্পাদক ও প্রকাশক বোরহান উদ্দিন ডালিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হেলাল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল, কাউন্সিলর কবির হোসেন চৌধুরী, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন, সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ সাধারণ সম্পাদক কে মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ এবং চাঁদপুর পুলিশ লাইন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সালাম।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’