শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে দিনে করতো গোস্ত বিক্রি রাতে চুরি-ডাকাতি, ছয় ডাকাতকে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মে, ২০২২, ২:২৫ পিএম
হাজীগঞ্জে দিনে করতো গোস্ত বিক্রি রাতে চুরি-ডাকাতি, ছয় ডাকাতকে আটক

সাইফুল ইসলাম সিফাত : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কচুয়া-গৌরীপুর সড়কের পাতানিশ এলাকায় ডাকাতি করার প্রস্তুতিকালে ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগতরাতে হাজীগঞ্জ উপজেলার পাতানিশ দক্ষিণ পাড়া হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের পশ্চিম পাশে মো. নানু মিয়া পাটোয়ারীর বসতঘরের পূর্ব পাশ্বের খোলা মাঠ থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত সদস্যরা হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের সুদিয়া গ্রামের হাজী বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. খাজা মহিউদ্দিন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড মফিজউদ্দিন বেপারী বাড়ির মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. আক্তার হোসেন শান্ত, একই বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. লিটন, হাজীগঞ্জ উপজেলার ওঁড়পুর গ্রামের নোয়াপাড়া ভূঁইয়া বাড়ির মৃত ইব্রাহিম ভূঁইয়ার ছেলে মো. এরশাদ ভূঁইয়া, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার রফিকপুর গ্রামের বাইন্না বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন ও কোম্পানিগঞ্জ থানার চরপাবর্তী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আমজাত স্যারের বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইলিয়াস।

গ্রেফতারের সময় ডাকাত দলের সদস্যদের কাছ থেকে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র ও একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত পিকআপ ভ্যানটি দিয়ে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরিসহ আরো কয়েকটি অপরাধের সাথে জড়িত এই ডাকাত চক্র।

Model Hospital

হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ জোবাইর সৈয়দ ডাকাতচক্র গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার তাদেরকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

তিনি আরো জানান, এই ডাকাতচক্র হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশে নিয়মিত গরু চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড মফিজউদ্দিন বেপারী বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. লিটন দিনে করতো গোস্ত বিক্রি। দিন শেষে রাত নামলেই গরু ক্রয়ের নামে দলবল সহ পিকাপ ভ্যান নিয়ে নিজ উপজেলা সহ আশপাশের উপজেলার গ্রামগুলোতে চালাতো গরু চুরিসহ ডাকাতি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’