শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতীকে গনধর্ষণ, ৩ ধর্ষক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১:০০ পিএম
ফরিদগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতীকে গনধর্ষণ, ৩ ধর্ষক আটক

এস.এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতী(২১)কে গনধর্ষণের অভিযোগ তিন বখাটে যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের নির্দেশে ২৫ মে বুধবার রাতে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন ও তদন্ত (ওসি) প্রদীপ মন্ডল সঙ্গীয় ফোর্সসহ উপজেলার পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতীকে গনধর্ষনের অভিযুক্ত তিন বখাটকে আটক করেছে।

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতীকে গনধর্ষনের তিন বখাটেরা হলেন, পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. সাকিব(১৯), মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার হরিশপুর এলাকার ইছা মোল্লার ছেলে সুজন মোল্লা(১৯) এবং নোয়াখালী জেলার (দরবেশ বাজার, চরজব্বর থানা) সুবর্ণচর উপজেলার হাজীপুর এলাকার মো. সেলিম মিয়ার ছেলে মো. শাহিন(২২)।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়, গত ২০ মে শুক্রবার রাতে পূর্ব বড়ালী এলাকার হারুন গাজীর গরুর খামারে পাশের্^ ইব্রাহীম গাজীর খেরের গাঁদায় নিয়ে ওই মেয়েকে পালাক্রমে তিন যুবক ধর্ষন করে।

Model Hospital

পুলিশ আরো জানায়, হারুন গাজীর গরুর খামারে কাজের সুবাদে সুজন মোল্লা ওই মেয়েটির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর সুজন মেয়েটির সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার সময় তার সহপাঠি শাহিন দেখে পেলে। এরপর শাহিন সুজনকে মেয়েটির সাথে শারীরিক সম্পর্ক করাতে বাধ্য করে। এসময় স্থানীয় যুবক মো. সাকিব এই ঘটনা দেখে পেলে এবং একই কায়দায় মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এরপর তিন বখাটে তাদের স্ব-স্ব অবস্থানে চলে যায়। এ ঘটনায় মেয়েটি তাৎক্ষনিক তার পরিবারের কাছে কিছু না বললেও পরে যখন মেয়েটি শারীরিক সমস্যা অনুভব করে তখন মেয়েটি তার মায়ের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। মেয়ের মা বিষয়টি জানার পর পুলিশকে অবহিত করলে, পুলিশ সাথে সাথে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তিন বখাটকে আটক করে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, ধর্ষনের সংবাদ শুনে অভিযান পরিচালনা করে আমার তিন ধর্ষককে আটক করেছি ও ভিকটিম মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি এবং ধর্ষন মামলায় তিন ধর্ষককে আদালতে প্রেরন করেছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’