শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: বাড়ি ঘর ভাংচুর, আহত ১২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ৩:২১ পিএম
মতলব উত্তরে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: বাড়ি ঘর ভাংচুর, আহত ১২

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কলাকান্দা ইউনিয়নের দশানী গ্রামে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মে) বেলা ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দুই গ্রুপের প্রায় ১২ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল ইসলাম সুমনের বাড়ি-ঘরে হামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উত্তর দশানী গ্রামের খলিলুর রহমান ভুইয়ার ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, আমার মামাতো ভাই মনির হোসেনের ড্রেজাতর মাওয়া থেকে আসছিল। হঠাৎ করে জানতে পারি মেঘনা নদীতে আসলে কারা যেন ইল্লালাহ-২ নামে ড্রেজারে আগুন ধরিয়ে দিছে। পরে আমরা নদীতে রওয়ানা হলে প্রতিপক্ষরা আমাদের উপর হামলা চালায় এবং ধাওয়া করে। পরে আমরা বাড়িতে চলে আসলে দশানীর সোহরাব সরকারের ছেলে রাজিব, রাসেল, কুতুব উদ্দিনের ছেলে তাজুল ইসলাম, লালু বেপারীর ছেলে কাউছার, কাদিরের ছেলে সেন্টু ও সামাদ মিজির ছেলে শামীম মিজি সহ বাহাদুরপুরের প্রায় ৮০-১০০ জন লোক এসে আমার বাড়িতে হামলা করে।

আমার বিল্ডিংয়ের গ্লাস ভাংচুর করে ও ঘরের বেড়া কুপিয়ে নস্ট করে ফেলে। আমি বাঁধা দিলে আমার হাতে কোপ পড়ে। আমি আমার স্ত্রী লুৎফা বেগম ও শিশু সন্তান আতিকুল ইসলাম আহত হয়। দুটি ড্রেজারের ইঞ্জিন পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় আমাদের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ড্রেজারে থাকা ৪ জন শ্রমিক ছিল। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক এখনও নিখোজ রয়েছে।

Model Hospital

সাইফুল ইসলাম সুমন আরও বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে আমাদের ওয়ার্ড থেকে নৌকা প্রতীক ১২০টি ভোট পেয়েছিল। সোবহার সরকার সুভা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। নির্বাচনের পর থেকে তিনি মনে করেন ভুইয়া বংশের লোকের তাকে ভোট না দিয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছে। তাই তিনি আমাদের সাথে বিভিন্ন সময় শত্রুতা করে আসছে। আজকে (শনিবার) সুযোগ পেয়ে আমাদের ড্রেজালে আগুন দেয় এবং বাড়ি ঘরে হামলা করে। আমরা থানায় মামলা করব প্রক্রিয়াধীন আছে।

এদিকে কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান সোবহান সরকার সুভার সাথে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার এক কর্মী শরীফ বলেন, তারা আমাদের উপর হামলা করেছে। চেয়ারম্যানের ডগইয়ার্ডের শ্রমিক নাছিরাকান্দির সজিব, শফিকুল, শাহাদাত, জীবন আহত হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় আমজাদ’সহ চেয়ারম্যানের আরো কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, ঘটনার পর এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’