শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিআইজি মাহবুবুর রহমানকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২, ২:২৬ পিএম
ডিআইজি মাহবুবুর রহমানকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : গতকাল ২৯ মে সোমবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কনফারেন্স রুমে মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) এক আনন্দঘন মূহুর্তে সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত ডিআইজি চাঁদপুর জেলার সাবেক সুযোগ্য পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানকে র‍্যাংকব্যাজ পড়িয়ে দেন।

এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার সহ বিভিন্ন ইউনিট প্রধানগণ এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডিআইজি-দের সহধর্মিণীগণ উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে অতিথির বক্তব্যে আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) বলেন মেধা ও যোগ্যতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডিআইজিগণের প্রতি আহবান জানাই। আইজিপি বলেন, দেশ, সরকার এবং সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ আপনাদের অনেক দিয়েছে। এখন আপনাদের শুধু দেওয়ার পালা।

আইজিপি পদোন্নতি প্রাপ্ত ডিআইজি-দের দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পেশাদারিত্বের সহিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন।

Model Hospital

মাহবুবুর রহমান পাবনা জেলার সদর উপজেলার শালগাড়ীয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাহার পিতা মরহুম আব্দুস সাত্তার, মাতা মরহুম রাবেয়া বেগম। তিনি ২০০১ সালের ৩১ মে ২০তম বিসিএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি শিক্ষাজীবনে পাবনা জেলা স্কুল, সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ, সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ পাবনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান এর পর যশোর জেলা, র‍্যাব, ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ, এসবি ও জেলাসহ পুলিশের বেশ কিছু ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ পদে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। চাঁদপুর জেলায় যোগদানের পূর্বে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ২০০৮ সালের ২৯ শে অক্টোবর হতে ২০০৯ সালের ২৭ শে অক্টোবর পর্যন্ত FPU Mission (Ivory Cost) দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও বিচক্ষণ অফিসার। কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের কারণে তিনি সকলের নিকট প্রশংসনীয়।

ডিআইজি মাহবুবুর রহমানের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সুনামের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে তিনি সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’