শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের পরিচিত সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২, ৩:৪৪ এম
চাঁদপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের পরিচিত সভা
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেছেন সাংবাদিকদের লেখার হাত হউক উন্মুক্ত এবং সেই হাতে আমরা কখনোই শিকল লাগাতে যাবোনা। যদি খুব ক্রিটিকাল কিছু থাকে সম্ভব হলে রিপোর্টের আগে আমাদের সাথে একটু আলোচনা করে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।

গতকাল ২ জুন দুপুর ১২ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের পরিচিতি সভায় চাঁদপুর জেলায় নব-যোগদানকৃত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কামরুল হাসান এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি এই সভায় চাঁদপুর সম্পর্কে অনেক তথ্য জেনে নিজে সমৃদ্ধ হলাম। আর এই তথ্যগুলো আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এগুলো নিয়েই আমার কর্মপরিকল্পনা সাজাবো। সম্ভব হলে প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর এই রকম সভা করে আমাদের কাজের অগ্রগতির ফলোয়াপ তুলে ধরবো। আমি যাতে আমার শার্টের রংয়ে কোন কাঁদা লাগানো  ছাড়াই এখানে শেষ কর্মদিবসের দিনটিও পরিচ্ছন্নভাবে শেষ করে যেতে পারি সে দোয়া ও সহযোগিতাই কামনা করছি। আপনারা আমাকে যে তথ্যগুলো দিয়েছেন আমি সে অনুযায়ী আমার আগামীর কর্মপরিকল্পনা সাজাবো। জেলার উন্নয়ন মুলক কাজে সকল গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চাই। আশা করব- জেলা প্রশাসনের সাথে সংবাদকর্মীদের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।

পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসান, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শহীদ পাটোয়ারী, ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাবেক সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, সাবেক সাধারন সম্পাদক রহিম বাদশা, জি এম শাহীন, এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত, ইব্রাহিম রনি, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল, দৈনিক  চাঁদপুর সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আবদুর রহমান, এটিএন বাংলা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি পার্থনাথ চক্রবর্তী, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন, সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, চাঁদপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ লতিফ, সাধারণ সম্পাদক কে এম মাসুদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি তালহা জুবায়ের, এনটিভি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম, এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি খোরশেদ আলম, সাংবাদিক সেলিম রেজা, অভিজিত রায়, শাওন পাটোয়ারী, অমরেশ দত্ত জয় প্রমুখ।

Model Hospital

এসময় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’