শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতবাড়িয়া কমপ্লেক্সের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০২২, ২:৫১ পিএম
সাতবাড়িয়া কমপ্লেক্সের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া কমপ্লেক্সের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হতে না পারায় নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান বেপারির বড় ভাই শাহ আলমকে মারধর করেছে প্রতিপক্ষ। মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। ঘটনা ঘটেছে ৫ জুন রোববার বিকেলে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সাতবাড়িয়ায়।

এলাকাবাসীর জানায়, সাতবাড়িয়া, নন্দলালপুর ও সুজানগরের কিছু অংশ নিয়ে সাতবাড়িয়া কমপ্লেক্সে। এই কমপ্লেক্সে মধ্যে রয়েছে বায়তুল আমান জামে মসজিদ, ঈদগাঁহ, নন্দলালপুর সাতবাড়িয়া আঞ্চলিক কবরস্থান ও নন্দলালপুর সাতবাড়িয়া গাউছিয়া নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা।

এই কমপ্লেক্সের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের লক্ষে ৪ জুন শনিবার বিকেলে এলাকাবাসী সাধারণ সভার আয়োজন করে। এতে প্রায় ৪ শতাধিক লোক উপস্থিত থাকে। পরে উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে মাহবুবুর রহমান শান্তি সরকারকে সভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন ২ জন । এরা হলেন গোলাম মোস্তফা এবং শাহজাহান বেপারি। কন্ঠ ভোটে গোলাম মোস্তফা ৪ ভোট পায়। আর বাকী প্রায় ৪’শ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. শাহজাহান বেপারি। কিন্তু গোলাম মোস্তফা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে না পারায় হট্টগোল সৃষ্টি করে এনিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

পরের দিন ৫ জুন রোববার বিকেলে নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান বেপারির বড় ভাই শাহআলম নন্দলালপুর বাজারের যাওয়ার পথে তাকে একা পেয়ে পদ না পাওয়া মোস্তফা সরকার ও তার ভাই মিজান সরকারসহ আরো কয়েকজন মিলে শাহআলমকে বেধরক মারধর করে। এতে শাহআলম গুরুত্বর আহত হয়ে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।

Model Hospital

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথম অবস্থা বিরাজ করে। বাদ মাগরিম সাতবাড়িয়া কমপ্লেক্সের সামনে অভিযুক্ত মোস্তফা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। বিক্ষোভ শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়েজ আহমেদ বলেন, প্রায় ৩ বছর আগে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই এলাকাবাসীর সর্মথনে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনগন যাকে চেয়েছে সেই নির্বাচিত হয়েছে। প্রতিপক্ষ নির্বাচিত হতে না পারায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান বেপারি বলেন, মৃত আব্দুল গনির ছেলে মোস্তফা সরকার আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গিয়ে লোকজন নিয়ে আমার বড় ভাইকে নির্মমভাবে মারধর করে। আমি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।

আহত শাহআলম বলেন, মোস্তফা সরকার দীর্ঘ ৩৫ বছর এই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিল। কমপ্লেক্সের বহু টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখন কমিটিতে থাকতে না পারায় আমাকে একা পেয়ে মারধর করে জখম করছে। অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা সরকারের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’