শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে দেড় যুগেও আলোর মুখ দেখেনি সেকদি-চান্দ্রার সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১, ৩:৫০ পিএম
ফরিদগঞ্জে দেড় যুগেও আলোর মুখ দেখেনি সেকদি-চান্দ্রার সড়ক

এস. এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জে দেড় যুগেও আলোর মুখ দেখেনি সেকদি-চান্দ্রার সড়কটি এবং পুরনো খুপরি ঘরেই চলছে বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। বাজারের ভিতরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি থাকার কারণে নানান সমস্যায় ভুগছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণ। এছাড়া ভবনের প্রবেশ পথটি খুবই সরু। পাশে ছাগলের হাট। পরিবেশ যাচ্ছে-তাই। অথচ ইউনিয়নটি বেশ সমৃদ্ধ। এ ইউনিয়নে বহু গুণী মানুষ জন্মালেও এখানে দু’টি ওয়ার্ড রয়েছে যেখানে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

এ ইউনিয়নে একটি রাস্তার জন্য ৩টি ওয়ার্ডের ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। রাস্তার অভাবে ইউনিয়ন পরিষদে আসতে তাদের কষ্টের শেষ থাকে না। চান্দ্রা-টুবগী রাস্তাটি প্রশস্থ এবং পাকা করা ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের জনগনের প্রাণের দাবী। চান্দ্রা বাজার এবং ইউনিয়ন পরিষদে আসার একমাত্র রাস্তা এটি। রাস্তাটি নদী এবং চরে আস্তে আস্তে গিলে খাচ্ছে। কোথায়ও কোথায় রাস্তার দুই পাশ ভেঙ্গে সরু আইলে পরিনত হয়েছে। রাস্তাটি হলে চান্দ্রার মানুষ অতি অল্প সময়ের মধ্যে জেলা সদর চাঁদপুরেও পৌঁছতে পারবে।

এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০টি মাছের ঘের রয়েছে। এই ঘেরের কারণে রাস্তা টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থালে গেলে জানা যায়, মোশারফ হোসেন মানিক চৌধুরীর নিজেরই ৮/১০ টি ঘের রয়েছে। সেকদী-মদনের গাঁও ব্রিজের পশ্চিম অংশ ২০০৪ সালে কার্পেটিং এর কাজ শেষ হয়। রাস্তা যখন ভালো ছিলো তখন এ পথটি ব্যবহার করতো হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে রাস্তাটির অধিকাংশ অংশ মাছের ঘেরে হেলে পড়েছে। সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন একটি রিক্সাও যাতায়াত করতে পারছে না। সেকদী-মদনেরগাঁও ব্রিজের পূর্ব অংশ চান্দ্রাবাজার পর্যন্ত সড়কটি এখন আইলে পরিণত হয়েছে। এখানে অতিতে রাস্তা ছিলো বলে মনে হয় না।

সেকদী ও মদনেরগাঁও এর বাসিন্দা ইয়াছিন, মোমিন তপাদার ও দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,‘রাস্তার দুই পাশেই প্রায় বিশটি মাছের ঘের রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে ঘেরগুরো তৈরী করার কারণে রাস্তাগুলো ভেঙ্গে গেছে। যদি সাইড ওয়াল দেওয়া হতো, তাহলে রাস্তাটি ঠিক থাকতো।’ তারা আরো বলেন- ধানুয়া, প্রত্যাশী, শোভান এবং বাগড়া বাজারের লোকজনও রাস্তাটি ব্যবহার করতো।

Model Hospital

প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা এবং নজরদারী না থাকার কারনে এমন অবস্থা হয়েছে।
৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মো.মানছুর খান এ প্রতিনিধিকে বলেন,‘মাছের ঘেরের কারনে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে। ওরা প্রভাবশালী। আমাদের কথা শুনে না।’

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,‘আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাই কাঁচা। তবে চান্দ্রা টু টুগবি রাস্তাটির জন্য আমি প্রস্তাব দিয়েছি। এরাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিন ওয়ার্ডের প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। এ রাস্তার অভাবে তারা ইউনিয়ন পরিষদ এবং বাজারে আসতে পারছে না।’ তিনি আরো বলেন,‘ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও করা দরকার।’

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবরার আহম্মদ এ প্রতিনিধিকে বলেন,‘পুকুর এবং মাছের ঘের রাস্তা নষ্ট করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ আমলে নিয়েছেন এবং আমাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।

ফরিদগঞ্জ বিশাল এরিয়া। তাই একটু সময় লাগবে। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবো।’

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’