শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে কাদমিয়ান অ্যালামনাই এসোসিয়েশন’র নবযাত্রা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১, ৪:১৫ পিএম
মতলব দক্ষিণে কাদমিয়ান অ্যালামনাই এসোসিয়েশন’র নবযাত্রা শুরু

চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার কালিকাপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন ‘কাদমিয়ান (KADMIAN) অ্যালামনাই এসোসিয়েশন ’-এর আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নবযাত্রা শুরু হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে এক ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে যথাক্রমে ‘আহ্বায়ক’ ও ‘সদস্য সচিব’ -এর পদ অলঙ্কৃত করেছেন বোরহান উদ্দিন রুবেল (ব্যাচ-২০০৮) ও মু. রাকিবুল হাসান (ব্যাচ- ২০১০)।

সংগঠনের নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম হিসেবে রয়েছেন যথাক্রমে রাসেল আহমেদ ও আলামিন সরকার। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন হাসান ব্যাপারী, ফয়সাল খাঁন, মতিউর রহমান, জিসান আহমেদ, আলামিন চৌধুরি, কাউছার আলম, শাহাব উদ্দিন, নাঈম ইসলাম সুজন ও মোস্তফা কামাল।

নব নির্বাচিত কমিটির আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন রুবেল ২০০৮ সালে উক্ত মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ৫.০০ (এ+) অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকেও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ (এ+) পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন ইলিনয়স বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন। তাঁর ভালো লাগার জায়গা রাষ্ট্রচিন্তা, জিও-পলিটিক্স, ধর্মতত্ত্ব ও সমাজনীতি নিয়ে গবেষণা করা।

Model Hospital

অন্যদিকে, সংগঠনটির সদস্য সচিব মু. রাকিবুল হাসান অত্র মাদ্রাসা থেকে ২০১০ সালের দাখিল পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫.০০ (এ+) পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মুহাম্মদ পাবলিক কলেজ’ থেকে ২০১২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ (এ+) পেয়ে ভর্তি হন দেশের আইন পাঠের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। এখান থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে তিনি গবেষণাধর্মী কাজে মনোনিবেশ করছেন। সমাজ সংস্কার, মানবাধিকার, আইন, দর্শন, লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চায় তাঁর ব্যাপক অনুরাগ রয়েছে।

নব নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কমিটির সকল সদস্যগণ তাঁদের সৃজনশীলতা, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার বদৌলতে সংগঠনটিকে একটি গতিশীল ও কার্যকরী সংগঠনে রূপদান করবে বলে আমরা মনে করি। নব নির্বাচিত কমিটির সকল সদস্যদের আমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই’।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’