রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে অসহায় দুঃস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও ক্ষুদ্রঋণের চেক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২, ২:১৭ পিএম
মতলব উত্তরে অসহায় দুঃস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও ক্ষুদ্রঋণের চেক বিতরণ

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তর উপজেলায় দুঃস্থ অসহায় মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন, নিবন্ধিত সেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদান এবং ক্ষুদ্রঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পরিষদ অডিটোরিয়ামে দুঃস্থ অসহায় মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন, নিবন্ধিত সেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদান এবং ক্ষুদ্রঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. শামসুল আলম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসানের সভাপতিত্বে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস।

Model Hospital

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, শেখ হাসিনা একজন নারী হওয়ায় নারীদের দুঃখ দূর্দশা বুঝতে পারেন। আর তাই বিভিন্ন সময় তিনি দুঃস্থ্য, অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন, নগদ অর্থসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য দিয়ে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন প্রদাণ করলেন।

যেন তারা পুরুষ মুখাপেক্ষি না হয়ে নিজেরাই কিছু করে তাদের সংসার পরিচালনা করে নিজে ভালো থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই সমাজের প্রত্যেকটা নারী নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কাজ করুক। প্রত্যাশা রাখবো এই সেলাই মেশিনের মাধ্যমে দুঃস্থ মহিলাগণ আত্মনির্ভরশীল হবেন এবং পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। এ সময় বিতরণকৃত সেলাই মেশিনগুলো বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ জানান।

আলোচনা সভা শেষে দুঃস্থ অসহায় মহিলাদের মাঝে ৭টি সেলাই মেশিন ও নিবন্ধন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদান এবং ১৮জন প্রশিক্ষিত নারীদের ক্ষুদ্রঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।