শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে দলীয় নেতৃবৃন্দের হাতে যুবদল নেতা প্রহৃত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২, ২:১৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে দলীয় নেতৃবৃন্দের হাতে যুবদল নেতা প্রহৃত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
এস. এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জে বিএনপির সমন্বয়কের বাড়িতে নিজ দলীয় নেতৃবৃন্দের হাতে প্রহৃত হয়েছেন যুবদল উপজেলা সদস্য সচিব আবদুল মতিন।  আহত অবস্থায় তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। মারধরের ঘটনার সাথে জড়িত যুবদল পৌর কমিটির আহবায়ক ইমাম হোসন ও তার ভাই সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন।
মতিনকে মারধরের প্রতিবাদে ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
৫ই অক্টোবর মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকায় মারধরের ঘটনা ঘটেছে বিএনপি ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়কারি এমএ হান্নানের বাড়িতে। এতে, বিএনপি, অঙ্গ ও সহেযাগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, উপজেলার অদূরে শোল্লা গ্রামের নিজ বাড়িতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের ডেকে নেন এমএ হান্নান। সেখানে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা চলছিল।

আহত আবদুল মতিন বলেন, নেতৃবৃন্দের আলোচনার এক পর্যায়ে সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মঞ্জিল হোসেন বলেন আমরা না থাকলে ফরিদগঞ্জে বিএনপির কর্মসূচী পালন হবে না। তার ওই কথায় বাধা দিয়ে আমি বলি গত প্রায় ১৪ বছর আপনারা দলের কোন কর্মসূচী পালন করেন নাই তখন বিএনপির কর্মসূচী পালন করেছে কে। এ কথার পর অতর্কিতভাবে যুবদল পৌর কমিটির আহবায়ক ইমাম হোসেন আমাকে পিছন থেকে ঘুষি দেন। একই সময়ে ইমামের সহোদর মঞ্জিল হোসেন আমার নাকে ঘুষি দেন। তার সহযোগী আমজাদ হোসেন শিপন চেয়ার দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন। এতে আমার নাকে আঘাত লেগে রক্ত বের হয় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের থামান। এরপর আমি রাত ১০ ঘটিকা নাগাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই।

এ ব্যাপারে ইমাম হোসেন বলেছেন, আমি তাকে একটি ধাক্কা দিয়েছি। মিছা কথা কইতে পারমু না, পরে শুনছি তার নাক ফাটছে। এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কিভাবে নাক ফাটছে আমি জানি না। তিনি বলেন, আর কেউ তাকে মারে নাই।

Model Hospital
এ ব্যাপারে জানার জন্য, মঞ্জিল হোসেনকে একাধীকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিএনপি ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল বলেন, আবদুল মতিনকে সকলের সামনেই মারধর করা হয়েছে। বিএনপির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও যুবদল উপজেলা কমিটির আহবায়ক মহসিন মোল্লাসহ
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মতিনকে মারধরের ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

মতিনকে মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বিএনপি উপজেলা কমিটির সভাপতি শরিফ মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, গত ১৪ বছর মঞ্জিল হোসেন ও তার ভাইয়েরা আওয়ামী লীগের দালালি করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচী সফল করতে ভূমিকা রেখেছে। দলটা একটা ইন্ডাস্ট্রির মতো হয়েছে। একেক সময় একেকজন নেতা হয়ে আসে, আর আমরা কর্মচারীর মতো খাটি।

দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এমএ হান্নান বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আমার ছবি দিয়ে উপজেলার সর্বত্র ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটাতে হবে। দলীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, এ বিষয়ে জানার জন্য এমএ হান্নানকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে, তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে আবদুল মতিনের সঙ্গে দেখা করতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তিনি।

শাহমাহমুদপুরে বিএনপির সভাপতি থেকে স্বপন মাহমুদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
শাহমাহমুদপুরে বিএনপির সভাপতি থেকে স্বপন মাহমুদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদের পদত্যাগকে ঘিরে ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মতবিনিময় সভা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের মান্দারী তাজ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জানানো হয়, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদককে দলীয় পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে হবে। এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদের পদত্যাগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, দলীয় ঐক্য ও আগামী দিনের করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। এ সময় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি তারা বলেন, বিগত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বপন মাহমুদ টানা দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তার রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, তাই এবারও তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় সমর্থন দিতে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করলে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে এবারও বিজয় নিশ্চিত করার আশা ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘদিনের সহকর্মী শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদের পদত্যাগের বিষয়টি সহজে মানিয়ে না নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নাহিদ খান, সাবেক সহ সভাপতি কবির হোসেন রনি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল দেওয়ান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, সমাজসেবক জহিরুল হক লালু মাষ্টার প্রমূখ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে মতামত ব্যক্ত করেন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল হাওলাদার, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহবুব বেপারী, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম পাটওয়ারী, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর খান, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মহসিন তপদার, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাজী, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ সাত্তার বেপারী, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজ খান, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফ তালুকদার, সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশেক এলাহী, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আলমগীর পাটওয়ারী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরে দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত ও উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সভাপতির পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করেন বিভিন্ন মামলা হামলার শিকার ও কারানির্যাতিত জননন্দিত নেতা স্বপন মাহমুদ। এবং এদিন রাতেই চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির কাছে তার পদত্যাগ পত্র জমা দেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের উল্লেখযোগ্য কিছু রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কথা সকলের কাছে স্মৃতিচারণ করেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, তাঁতীদল, ওলামাদলের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল পাটওয়ারী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহীন হাওলাদার, সদস্য আবুল বাশার, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল খান, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব গাজী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মাহমুদ সেলিম, যুবদল নেতা শওকত কারী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গাজী নূর আলম, যুগ্ম আহবায়ক জুলহাস পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মিজি, ছাত্রদল নেতা সজিব পাটওয়ারী, ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী পারুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রুমা বেগম, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সার্ভেয়ার আব্দুল হামিদ সহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।