বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কারো সমস্যা নির্বাচন, কারো বিরোধী দল, আমার সমস্যা অস্তিত্বের সংকট: শ্যামল দত্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১২:৩০ পিএম
কারো সমস্যা নির্বাচন, কারো বিরোধী দল, আমার সমস্যা অস্তিত্বের সংকট: শ্যামল দত্ত

সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা নিয়ে দেশের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ব্লেইম গেম খেলছে যেখানে সংখ্যালঘুরা আছে অস্ত্বিত্বের সঙ্কটে- বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত। যমুনা টেলিভিশনের টক শো ‘আমজনতা’য় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

উপস্থাপকের প্রশ্নের উত্তরে শ্যামল দত্ত বলেন, দেখুন আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এখানে কারো সমস্যা নির্বাচন কেন হচ্ছে না, আবার কারো সমস্যা বিরোধী দলকে ঘায়েল করা। এরমধ্যে আমার সমস্যাটা হচ্ছে ‘অস্তিত্বের সঙ্কট’। এদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী কতটা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে তা আপনি পীরগঞ্জের হরিদাস রায়ের ইন্টারভিউ দেখলেই বুঝবেন। হরিদাশ স্ত্রী-সন্তানের মুখ চেপে ধরে সারারাত ধানক্ষেতে লুকিয়ে ছিলেন। এরকম পরিস্থিতি সর্বশেষ হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধের সময়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কেন একজন সংখ্যালঘু নাগরিককে এরকম পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে সে সঙ্কট নিয়ে আমরা কেউ আলোচনা করছি না।

দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি নিয়ে শ্যামল দত্ত বলেন, দুই রাজনৈতিক দলই ব্লেইম গেম খেলছে, কিন্তু সংখ্যালঘুরা বারবার কেন একই সঙ্কটে পড়ছে তা নিয়ে কেউ আলোচনা করছে না। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার এ আগুনে বাংলাদেশ পুড়ছে, মুক্তিযুদ্ধ পুড়ছে। যে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দেশের জন্ম, সে দেশ কি সেই জায়গায় আছে এখন?

সংখ্যালঘু নির্যাতনে বিদ্যমান বিচারহীনতা নিয়ে শ্যামল দত্তের মন্তব্য, একটা ঘটনারও যদি বিচার না হয় তাহলে বারবার এসব ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ২০০১ এ নির্বাচনের আগে ও পরে দেশে প্রায় ২৭ হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ হাজার মামলার সুপারিশ করেছিলো। অথচ তারা এখন আমাদেরকে বলছে যে, সেসব মামলার বিচারকাজ শুরুই হয়নি! ২১ বছরেও যে অন্যায়ের বিচার হয় না, সেখানে আপনি আর কিসের বিচার চান? রামু, নাসিরনগর, লামা, বান্দরবান বা শাল্লায় ঘটা ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। এরকম একাধিক ঘটনার যখন বিচারই হয় না তখন আপনি এসব বন্ধ করবেন কী দিয়ে? এবার দেখা গেছে যে, পূজা মণ্ডপগুলোয় কোনো নিরাপত্তা নেই, আর রাজনৈতিক শক্তিই বা কোথায়! অসাম্প্রদায়িক আচরণ ও ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতির কথা বলায় আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের ভরসা থাকে একটু বেশি, কিন্তু অষ্টমী থেকে আজ পর্যন্ত গত ৫ দিনে আওয়ামী লীগের কোনো ভূমিকা দেখিনি। অথচ ১৯৬৪ সালের দাঙ্গার প্রতিবাদে হওয়া প্রথম মিছিলের নেতৃত্বে দিয়েছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের আওয়ামী লীগ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে, তারা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সেই জোরালো অবস্থানে এখনও আছে বা সেই অবস্থান তারা আর নিতে পারবে কি? পারবে না, আমরা দেশের কোথাও আওয়ামী লীগ নেতাদের নামতে দেখিনি।

Model Hospital

উদাহরণ দিয়ে শ্যামল দত্ত বলেন, গত পরশু ফেনীতে হওয়া ঘটনার পর সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতাদের দেখা যায়নি, সেখানকার স্থানীয় এমপি তো আওয়ামী লীগেরই, তাকেও কোনো প্রতিবাদে নামতে দেখা যায়নি। এমনকি, একের পর এক হিন্দুদের দোকান পোড়ানোর সময় কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রতিবাদে নামতে দেখা যায়নি।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে একটা বিশেষ ধর্মের নাগরিকের সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে উপস্থাপক শ্যামল দত্তের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৪৭ এ দেশভাগের পর এদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে কেন আসলো তার পরিসংখ্যান আপনাদেরকে অবশ্যই নিতে হবে। দেখুন, অষ্টমীর রাতে আমি নিজে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। আমি গ্রামে ছিলাম, সেখানকার বহু মানুষ আমাকে বলেছে, যে এদেশে বুঝি আর থাকা হবে না। এরকম নিরাপত্তাহীনতা, অসহায়ত্ব ও বিচারহীনতার কারণেই তাদের সংখ্যা কমেছে। ১৯৭১ এ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি, গত পঞ্চাশ বছরে জনসংখ্যা বেড়ে ১৭ বা ১৮ কোটি হয়েছে। কিন্তু দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যা কেন ২৯% থেকে কমে ৯% এ নেমে আসলো, এর কারণ কি আমরা কোনোদিনও অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি? বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেভাবে ধর্মের ব্যবহার হয়েছে বা ৭৫ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপোষ করেছে, সেই আপোষের রাজনীতির কারণেই মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শাল্লার ঘটনায় গ্রেফতার ঝুমন দাসকে জেলে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে পুলিশ বলেছে যে, বাইরে তার নিরাপত্তা দিতে পারছে না বলেই ঝুমনকে জেলে রাখা হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, আপনি নিরাপত্তা দিতে না পেরে কতজনকে এভাবে জেলে রাখবেন বা রাখতে পারবেন?

সংখ্যালঘুদের জন্য একটা ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা কে নিশ্চিত করবে, উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, এখন আমি কি নৈতিক ভাবনা ভাববো নাকি আমার বাস্তবতা নিয়ে ভাববো? দেশের মধ্যে আমার নিরাপত্তা যদি আপনি নিশ্চিত করতে না পারেন তাহলে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী আছে কেন? হামলাকারীরা কি নিরাপত্তা বাহিনীকে জানিয়ে হামলা চালাবে? দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার নেই? দেশে ঘটা যেকোনো কিছুর ভিকটিম কেন শুধু সংখ্যালঘুকেই হতে হবে? আমার মন্দির-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব কার? পীরগঞ্জের গরীব মানুষগুলোর কথা ভাবুন একবার, তারা একরাতের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ফেনীর ঘটনার সময় পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছে, পুলিশ আসেনি। বিজিবি এর কাছে সাহায্য চেয়েছে, বিজিবি বলেছে- ডিসি’র অর্ডার ছাড়া যাওয়া যাবে না। র‍্যাবের কাছে সাহায্য চেয়েও র‍্যাব যায়নি। এরমধ্যেই মন্দির-বাড়িঘর-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। এখন মানুষ যাবে কোথায়? মানুষের অসহায়ত্ব এতটাই চরম যে, এখন এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের আসলে কোনো গুরুত্ব নেই। এখন আমার অস্ত্বিত্বের সঙ্কট আর তাদের চিন্তা ক্ষমতায় কে যাবে বা যাবে না। আমার এমন সঙ্কটে আমি রাজনৈতিক বাহাস করতে পারছি না।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।