বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার পুরি বিক্রি হয়

‘আজিজের আলুপুরি’ খেতে এত ভিড় কেন?

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪, ১০:০২ পিএম
‘আজিজের আলুপুরি’ খেতে এত ভিড় কেন?
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে জনপ্রিয় একটি খাবার ‘আজিজের পুরি’। কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় মোড়ে ক্যানেলের পাড়ে ছোট দোকানটিই আব্দুল আজিজের পুরির দোকান। ওই দোকানে একটাই খাবার মেলে, সেটা হলো আলুপুরি।
আজিজের পুরি কিনতে বেশ খানিকটা সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়। ছোট ছোট পুরি পেতে বা খেতে বিকেলের পর থেকেই ছোট দোকানটির সামনে জটলা তৈরি হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে কিনতে হয় খাবারটি। জনপ্রিয় এই আলুপুরির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি আকারে ছোট, বিশেষ মসলাযুক্ত আর কুড়মুড়ে। সাথে আছে পিঁয়াজ ও শুকনো মরিচের সুস্বাদু সালাত। দাম একেকটা তিন টাকা। প্রতিদিন গড়ে এখানে দুই থেকে আড়াই হাজার পুরি বিক্রি হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী মো. জামসেদ পাটোয়ারী এ এলাকায় কাজে এসেছিলেন। বিকেলে কাজ শেষে যাওয়ার পথে দেখে আজিজের পুরির দোকানটায় অনেক লোকের সমাগম। পরে ক্যানেলের ঐ পার গিয়ে দেখে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে অনেক লোক। জামসেদ পাটোয়ারী জানান, আমার ও খিদে ছিল তাই পুরি খাওয়ার জন্য সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর পেলাম সেই কাঙ্খিত আজিজের পুরি। মুখে দিতেই অমৃত স্বাদ। সেই থেকে আমি প্রতিনিয়ত এ এলাকায় আসলে আজিজের পুরি খেয়ে যাই ও ফ্যামিলিদের জন্য বাসায় নিয়ে যাই।
ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের মো. সুমন পাহাড় জানান, আমি সহ আমার এলাকার বন্ধুবান্ধব নিয়ে প্রায়ই আজিজের পুরি খেতে আসি। লাইনে অপেক্ষারত অবস্থায় তিনি বলেন, এই পুরি এখন মতলব উত্তরের ঐতিহ্য হয়ে যাওয়ার পথে। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। দিয়ে তো পারে না। কেউ ৩০টা, কেউ ৫০টা, কেউ  ১০০টা পর্যন্ত অর্ডার করছে।
বন্ধুদের নিয়ে পুরি খেতে আসা মে. রায়হান জানান, পুরির দাম কম হলেও বেশ মজাদার। এই এলাকায় সবার কাছে পরিচিত এই আজিজ পুরি।
আরেক ক্রেতা সফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন ধরেই শুনছি হানিরপাড়ে পুরি খেতে অনেক মানুষ আসে। আজ ফ্রেন্ড সার্কেল নিয়ে আসলাম স্বাদ নিতে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে ৩ টাকায় পুরি পাওয়া অনেক ভালো বিষয়।
আকারে ছোট হলেও পুরিটা বেশ স্বাদের। পুরির সঙ্গে ছিটানো বিট লবণ, পেঁয়াজকুচি ও ধনেপাতা থাকে, যা স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
আজিজের পুরির খ্যাতি পুরো উপজেলা জুড়ে। যার নামে দোকান সেই আব্দুল আজিজ মিয়া দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পরিচালনা করে আসছেন তার এই প্রতিষ্ঠানটি। এখন তার সাথে সহযোগিতা করেন তার দুই ছেলে।
সম্প্রতি এক রাতে ওই দোকানে গিয়ে দেখা গেল, দোকানের সামনে বেশ বড় লাইন। দোকানের পাঁচজন ভীষণ ব্যস্ত ক্রেতাদের সামলাতে। ছোট দোকানের মধ্যে দুজন মেশিনের মতো হাত চালিয়ে পুরি বেলছেন। সামনের উনুনে গরম তেলে সেই পুরি ফেলছেন আরও দুজন। দোকানের পাশের আরেকটা বেঞ্চে আরও একজন পুরি তৈরির কাজ করছেন। দোকান মালিক আব্দুল আজিজ সবকিছু তদারকি করছেন। মাঝেমধ্যে নিজেই পুরি তৈরি করছেন, আবার কখনো গ্রাহকের হাতে ভাজা পুরি তুলে দিচ্ছেন।
আব্দুল আজিজের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ২৫ বছর আগে এই জায়গাতে পুরি বিক্রি শুরু করি। এখনো এই পেশায়ই আছি। আমার চারজন ছেলে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে এক ছেলে বিদেশে আছে, আরেক ছেলে পাশেই ফার্নিচারের দোকান আছে, আর দুই ছেলে আমার পুরির দোকান পরিচালনা করে আসছে। আমি এই ব্যবসা করে এখন বেশ ভালই আছি।
তিনি আরও বলেন, আমি সবদিক দিয়ে খুশি। ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘরসংসার আর মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ইজ্জত, সব মিলিয়ে ভালো আছি। এখানে এমন এমন লোক আসেন, যা আমি কল্পনাও করতে পারি না। আমি মতলবের বাইরে অনেক জায়গা যাই, হয়তো আমি ওই লোককে চিনি না, কিন্তু লোকটা আমাকে চেনেন। অনেক সমাদর করেন। যখন বলেন, মতলবে আপনার একটা ছোট দোকান আছে না? আমরা তো বেড়াতে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে পুরি খাইছি, তখন মনটা ভরে যায়।
আজিজের আলুপুরিতে উপাদান হিসেবে আলু, ছোলার ডাল, রসুন, পেঁয়াজ, আদা, মসলাসহ কয়েক ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয়। মসলাই অন্য পুরি থেকে আজিজের পুরিকে আলাদা করে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital