শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল বিরোধী অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:৪৬ পিএম
মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল বিরোধী অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

হাসপাতালে দালালদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক।

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) বেলা ১২ টায় অভিযানে পাঁচ দালালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সরেজমিনে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে উপজেলা সদরের বিশেষ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োগকৃত মহিলা দালালদের উৎপাতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা বিভিন্ন অঞ্চলের রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। দালালদের এমন উৎপাত বন্ধে বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে দালাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

অভিযানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হরযত শাহ জালাল ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুজন, পপুলার মেডিকেল সেন্টারের একজন, নোভা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজনসহ অপরজনকে আটক করা হয়। আটককৃত মহিলাদের বিরুদ্ধে হাসপাতালে দালালি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের জেল প্রদান করেন।

Model Hospital

ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ প্রদান করতে ব্যর্থ হলে আটককৃতদের থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে তাদের ছাড়িয়ে আনেন।

অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গোলাম কাওসার হিমেল, আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাজিব কিশোর বণিক, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোশারফ হোসেন, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম সহ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দালাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় অনেক দালালরা আত্মগোপনে চলে যায়। সরকারি হাসপাতাল সড়কে একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গড়ে ওঠা প্যাথলজির মালিকরা এ সকল দালাল নিয়োগ করে থাকেন। তাদের কারণে রোগীরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সাথে হাসপাতালের কতিপয় ডাক্তাররাও নিজেদের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠান বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। মাঝে মাঝে রোগী টানাটানি নিয়ে দালালদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও হয়ে থাকে বলে জানান স্থানীয়রা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’