শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরের উজ্জ্বল মিজি হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪, ১২:০৭ এম
মতলব উত্তরের উজ্জ্বল মিজি হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার আলোচিত উজ্জল মিজি (৪৪) এর হত্যা মামলার আসামী গ্ৰেপ্তার করেছে চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আটককৃত আসামী মোঃ ফরিদ গাজী (২৮) মুন্সিগঞ্জ জেলার বানিয়াল মহেষপুর (পশ্চিম কান্দি) গ্ৰামের মোঃ ছানাউল্লাহ গাজী @ সানা গাজীর ছেলে।

মতলব উত্তর থানার মামলা নং- ০৬, তারিখ- ০৭/০৫/২০২২ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড।

গত ৩০ জুন দিবারাত অনুমান ২.৩৫ ঘটিকার অর্থাৎ ১ জুলাই রাতে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন তল্লা পুস্কনির পাড় ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Model Hospital

ঘটনার দিন গত ০৬/০৫/২০২২খ্রিঃ রাত অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার আসামীদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ঘটনাস্থলে ফাঁকা গুলি করে ঘটনাস্থলে আতংক সৃষ্টি করে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামীদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে উজ্জ্বল মিজির ডান পাশের হাটুর উপরে কোমড়ের নিচে রানে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে জখম করেন।

একপর্যায়ে আটককৃত আসামীসহ অপরাপর আসামীরা তাদের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি, রামদা, ছেনী দিয়ে ভিকটিম উজ্জল মিজির শরীর থেকে পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি মারাক্তক রক্তাক্ত কাটা জখম করে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ভিকটিমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে গেলে ঢাকা মেডিকেলের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত ঘোষনা করেন।

মামলাটি পিবিআই সিডিউল ভুক্ত হওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আদেশ বলে মামলাটি পিবিআই চাঁদপুর কর্তৃক অধিগ্রহণ করে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মীর মাহবুবুর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

মামলার তদন্তকালে এ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় গত ৩০ জুন পিবিআই চাঁদপুর এর পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম এর নেতৃত্বে ও সার্বিক সহযোগিতায় মামলার তদন্তকারী অফিসার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মীর মাহবুবুর রহমান এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় এসআই আমিরুল ইসলাম মীর, এসআই ফজলুর রহমান চৌধুরী, এএসআই আলমগীর হোসেন ও ফোর্সদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে আত্মগোপনে থাকা এজাহার নামীয় আসামী মোঃ ফরিদ গাজীর ভাড়া বাসা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী ঘটনার সাথে জড়িত থাকাসহ এ মামলার ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম- সেবা জানান, আটককৃত আসামি মোঃ ফরিদ গাজী এর বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির চেষ্টা, অস্ত্র আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

ইতিপূর্বে এ মামলার এজাহার নামীয় বেশ কিছু আসামীদেরকে পিবিআই চাঁদপুর কর্তৃক গ্রেফাতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’