সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বাকিলা ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুট

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১০ মে, ২০২৩, ৯:৩১ পিএম
বাকিলা ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুট
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নং বাকিলা ইউনিয়নে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল গাজীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইভটিজারদের হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইভটিজার একই ইউনিয়নের স্বর্ণা গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মিলন হোসেন, একই গ্রামের আলী হোসেনসহ একাধিক যুবকের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ  দায়ের করেন ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল গাজী।
থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইউপি সদস্য বিল্লাল গাজী বলেন, গত ৮ মে সোমবার রাত ৮ টার দিকে আমার ওয়ার্ডের বাকিলা রেললাইনের উপর পাশ্ববর্তী স্বর্ণা গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মিলন হোসেন, একই গ্রামের আলী হোসেনসহ কয়েকজন যুবক সিগারেট হাতে মহিলাদের টার্গেট করে ধোঁয়া ছাড়ে আর শীষ দেয়। আমি বিষয়টি জানতে পেরে আমার চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন তাদের কাছে গিয়ে ইভটিজিং করায় প্রতিবাদ করে চলে আসি। তারা পরে আমার চাচাতো ভাইদের উপর ছড়ো হয়ে গায়ে হাত তুলে পালিয়ে যায়।
পরের দিন মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে ইভটিজার মিলন হোসেন ও আলী হোসেনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন যুবক বাকিলা বাজারে আমার গাজী মুদির দোকানে হামলা চালায়। দোকানে বসা আমার প্রতিবন্ধী ছেলে রুবেলকে মারধর করে জখমপ্রাপ্ত করে। এ সময় দোকানে মুদি মালামাল,  নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। আমি জনপ্রতিনিধি হিসাবে এবং আমার দোকানে প্রতিবন্ধী ছেলেসহ তিনজনকে মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় ইভটিজারদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ ঘটনা শুনে বাকিলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক অমল কান্তি ধর পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইউপি সদস্য ও ব্যবসায়ী বিল্লাল গাজীকে পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, খবর পেয়ে দোকানে ছুটে যাই এবং ক্ষয়ক্ষতি দেখে প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।