বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কাল হচ্ছেনা চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৩, ৯:৫৪ পিএম
কাল হচ্ছেনা চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
আগামীকাল ১৭ জুন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কথা থাকলেও সম্মেলন হবার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আবার সম্মেলন না হওয়ার নির্দেশনাও এখন পর্যন্ত আসেনি। অথচ পূর্বনির্ধারিত ১৭ জুন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র বাকি ১’দিন। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও সম্মেলন বিষয়ে কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এমতাবস্থায় দলের নেতা- কর্মীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
কেননা এর আগে দুই দফা তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন না হওয়ার জন্য বিভিন্ন কারণ শোনা গেলেও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কিংবা জেলা নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ প্রকাশ করেনি। কেন্দ্রীয় ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে জাতীয় নির্বাচনের পর সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও সম্মেলন না হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই সকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এমতাবস্থায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে মোটেও প্রস্তুত নয়।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সূত্রে জানা গেছে, সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আগামী ২৩ শে জুন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বিএনপি জামাতের আন্দোলন সহ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র, বর্ষাকালে ঝড়বৃষ্টি জনিত আবহাওয়া, সামনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা এবং জুন মাসের শেষ সপ্তাহে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন হবে। এসব সামলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করলে দলের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার চেয়ে নিজ দলে বিভক্তি ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রুপ – উপগ্রুপ প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই নিকটবর্তী। এখন জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলে সংগঠনের মধ্যে গ্রুপ – উপগ্রুপ সৃষ্টি সহ জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এতে করে দলের সাংগঠনিক অবস্থান দূর্বল হয়ে যাবে এবং জাতীয় নির্বাচনের দলের প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্বন্দ্ব-অসন্তোষ বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় নির্বাচনের আগে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের ঝুঁকি নিতে চায় না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনের বছরে তৃণমূলে যেন নতুন করে কোনো কোন্দল-অসন্তোষ তৈরি না হয়। তাই কেন্দ্র চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অভিজ্ঞ এবং দক্ষতায় পূর্বের নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখছে। তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব এলে তৈরি হবে গ্রুপিংয়ের নতুন মাত্রা। নির্বাচনের আগে তৈরি হতে পারে জটিল পরিস্থিতি। তাছাড়া পুরোনো নেতাদের বাদ দিয়ে নতুনদের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে যে সময় যাবে তা দলের হাতে নেই।
এছাড়াও জেলার আটটি উপজেলা ও ৭ টি পৌর কমিটির মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলা, ছেংগারচর পৌরসভা, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাকি। এছাড়া সকল উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মতলব দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সম্ভব হয়নি।
এই সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন প্রার্থীদের পক্ষে, গণমাধ্যম, সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার- প্রচারণা চলছিল। হঠাৎ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার খবরে রাজনৈতিক পাড়ায় চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন। কেন হচ্ছে না, কবে হবে এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক পাড়ায়।
আগামী ১৭ জুন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের (ত্রি- বার্ষিক কাউন্সিল) সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত চিঠি ১০ মে ইস্যু করে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রেরণ করা হয়। এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির নির্দেশক্রমে আগামী ১৭ জুন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
জেলা নেতৃবৃন্দ এই মুহূর্তে সম্মেলন করতে চায় না বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কিংবা জেলা নেতৃবৃন্দ কোনো বিবৃতি/বিজ্ঞপ্তি না দেওয়ায় এ নিয়ে ধুম্রজাল দেখা দিয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারীর দুলাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাতে চাঁদপুর খবরকে জানান, সহসা চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সম্মেলনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে জেলায় আমাদের দলীয় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পালিত হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা সক্রিয়। সাংগঠনিকভাবে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সুশৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।
উল্লেখ্য: চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সবশেষ সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি। আর কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদিত হয় ২০১৭ সালের ১০ আগষ্ট।ওই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।