শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলীতে অ্যাড. তাহের হোসেন রুশদীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩, ১০:১৫ পিএম
শাহতলীতে অ্যাড. তাহের হোসেন রুশদীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী শাহ্তলী নিবাসী অ্যাডভোকেট মরহুম তাহের হোসেন রুশদীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পবিত্র কোরআন খতম, কবর জিয়ারত, স্মরণ সভা, দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪জুলাই) সকাল ১১টায় শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ মিলনায়তনে স্মরণ সভায় কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: কামাল হোসেন।

প্রধান অতিথি চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: কামাল হোসেন বক্তব্যে বলেন, যখন কোন ব্যক্তির স্মরণ সভায় এলাকার লোক আসে, তখন একটি বার্তা চলে আসে যে লোকটি কতটা ভালো মানুষ ছিলেন। আজ যদি তাহের রুশদী সাহেব বেঁচে থাকতেন তাহলে আজকের নুতন কারিকুলামের ব্যাপক বিস্তারের সুযোগ থাকতো। কারন উনার জীবদ্দশায় প্রশ্ন করার অভ্যাসটাই আজকের নতুন কারিকুলামের মধ্যে পড়ে। উনি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এই এলাকায় প্রথমে শাহতলী কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর এ মাদরাসার কামিল স্তর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মরহুমের পিতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী। এ অঞ্চলে শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। পরবর্তীতে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর হাল ধরেছেন এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করছেন দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল রুশদী সাহেব। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতায় সাংবাদিক সোহেল রুশদীর সার্বিক প্রচেষ্টার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন হয়েছে। আমি এ পরিবারের সকলের দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং মরহুম তাহের রুশদী সাহেবের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। রুশদী পরিবার এ এলাকাসহ সারা দেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাংবাদিক সোহেল রুশদী সাহেব শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন।

২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওকলেজ গভনির্ং বডির সদস্য মো: আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

Model Hospital

অনুষ্ঠানের সভাপতি শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আজকের এই দিনে আমার পিতা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। আমার বাবা বহু গুনের অধিকারী ছিলেন। উনি একদিকে শিক্ষক বাবা জনপ্রতিনিধি ও সর্বোপরি আইনজীবি ছিলেন, মানুষের সেবায় ছিলেন উদার। ওনার প্রতি মানুষের আস্থা ছিল। এর আগে আমার দাদা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেবের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী সম্পন্ন করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রয়োজন, আমরা আবেদন করেছি। আজকের প্রধান অতিথি চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামাল সাহেব অনেক দক্ষ অফিসার। তিনি শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ এর ঘোষনা দিয়েছেন, তা বাস্তাবায়ন করবে শিক্ষার্থীরা। আমার দাদার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এ এলাকা আলোকিত হয়েছে। এ কলেজটি সদরের প্রথম বেসরকারি কলেজ। আমরা সকলে মিলে এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমার বাবা মানুষকে ভালোবাসতো, মানুষের ভালোবাসায় তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনগণের সেবা করে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজসহ সকল প্রতিষ্ঠানে ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মান করা হয়েছে। আমরা এ ভবনগুলো করতে পেরেছি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি’র সহযোগিতায়। আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির এমপি’র প্রতি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসিন উদ্দিন, জনতা ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো: আব্দুল কাদের হাজরা, জিলানী চিশতী কলেজের সিনিয়র প্রভাষক মিসেস নুরুন্নাহার বেগম মুক্তা, সিনিয়র প্রভাষক মো: হানিফ মিয়া, প্রভাষক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ, শাহতলী কামিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান, মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী, সাবেক (অবসরপ্রাপ্ত ) শিক্ষক মো: মিজানুর রহমার মুন্সি, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: ইদ্রিস আলী, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সহ-সভাপতি মো: নুরুজ্জামান মুন্সি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর মিজি, স্থানীয় মো: মিতুল পাটওয়ারী, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জিলানী চিশতী কলেজের দ্বাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থী তানজীলা আক্তার।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জিলানী চিশতী কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: গোলাম সারওয়ার, শাহতলী কামিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এম এ কুদ্দুস রোকন, ইংরেজী প্রভাষক মাওলানা মোহাম্মদুল্লা, জিলানী চিশতী কলেজের প্রদর্শক মো: মুঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী, কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ মানিক মিয়া, ডিবির কর্মকর্তা মো: সাইফুল কবির চৌধুরী, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, শাহতলী কামিল মাদরাসার ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মো: মোস্তফা খান, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবি’র সহকারি শিক্ষক দীপঙ্কর দে, মো: নেছার আহমেদ খান, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মান্নান, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার মো: সফিক কারী, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো: আবুল কাসেম কারী, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: মজিব কারী, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মো: মোস্তফা মিজি, শাহতলী কামিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মুন্সি, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো: মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, শাহতলী রেল স্টেশন জামে মসজিদের সেক্রেটারী ব্যবসায়ী মো: আবুল কাসেম মিজি, শাহতলী রেল স্টেশন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল বারী, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথিমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: নজরুল ইসলাম মিজি, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: রবিউল আউয়াল খান, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারী মো: আব্দুল আজিজ মিজি, সমাজসেবক মো: জহির চৌধুরী, শাহতলী কামিল মাদরাসার হিসাব-রক্ষক মো: শরীফুর রহমান খান, স্থানীয় প্রবাসী মো: শাহ আলম খান, শাহতলী কামিল মাদরাসার খন্ডকালীন সহকারি শিক্ষক শামছুদ্দোহা, শাহতলী বাজারের ব্যবসায়ী জহিরুল হক নুরু গাজী, সমাজসেবক মো: সামছুল হুদা, মো: হাসান মুন্সি, শাহতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো: দেলোয়ার হোসেন দেলু, স্থানীয় মো: জামাল কারী, শাহতলী বাজারে ব্যবসায়ী মো: সোহাগ গাজী, স্থানীয় মো: শাহআলম মিজি, মুন্সি বাড়ি নিবাসী মো: নূর মোহাম্মদ মুন্সি, মো: শাহাদাৎ মুন্সি, হাজী আব্দুল ওহাব খান বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম, জিলানী চিশতী কলেজের অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, অফিস সহকারি মো: মেহেদী হাসান, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবি’র কম্পিউটার অপারেটর মাওলানা মামুন হোসাইন, শাহতলী কামিল মাদরাসার অফিস সহকারি মো: রিয়াদ হোসেন, অফিস সহকারি মো: শরীফ খান, স্থানীয় মো: তাহের বোয়াল, শাহতলী বাজারের ব্যবসায়ী মো: মফিজ মিজি, বালু ব্যবসায়ী জসিম মিজি,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির, স্থানীয় মো: সেলিম মিজি, স্থানীয় তাহের মিজি, স্থানীয় মো: বদু গাজী, স্থানীয় মো: জুলহাস মিজি, স্টেশন ব্যবসায়ী মো: টিটুসহ মুসল্লিগণ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকার সর্বস্তরের লোকজন ।

স্মরন সভা অনুষ্ঠানের শেষে মরহুমের শাহতলীস্থ রুশদী বাড়িতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। দোয়া, মিলাদ ও মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।

কর্মসূচীর শুরুতেই সকাল ৯টায় শাহতলী রুশদী বাড়ি জামে মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে সকাল ১০টায় মরহুমের কবর জিয়ারত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ জুলাই ঢাকা শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’