শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবি’র পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩১ পিএম
উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবি’র পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ফলাফল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরন করেন প্রধান অতিথি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ফলাফল বিতরন করা হয়েছে।

১১ডিসেম্বর (শনিবার) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সহকারি শিক্ষক মো: সোহরাব হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি বদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদউ বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি তোমাদের জন্য বড় আনন্দের। আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেবকে যিনি এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ বিদ্যালয়ের ভবনটি করতে সকলেই সহায়তা করেছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আমি যখন ভবন করতে জায়গা নিয়ে সমস্যায় পরছি, তখন আমার আম্মাসহ অনেকে সহযোগিতা করছে। এ বিদ্যালয়ের জন্য ভবনটি প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলে এ বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি বেশি হয়েছে এটা আমাদের জন্য খবই সু-সংবাদ। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন দাসের নেতৃত্বে শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রম করে বিদ্যালয়টিকে ভালোস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। যে কোন প্রতিষ্ঠান যত বেশি শ্রম দিবে, সে প্রতিষ্ঠান তত উন্নত হবে। আমার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেসের ব্যাপারে সর্ব্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে। এটা ধারাবাহিকভাবে চলবে। আমি চাই তোমরা ভালো রেজাল্ট কর। ভালো রেজাল্ট করে করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, আমি বিজয়ের মাসে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করছি শ্রদ্ধাভরে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি’র সহযোগিতায় এ প্রতিষ্ঠানে একটি নতুন ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন হয়েছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক মো: ইদ্রিস আলী, সহকারি শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রুবিনা আক্তার, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক মেম্বার মো: সফিক কারী, ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সহ-সভাপতি মো: নুরুজ্জামান মুন্সি, শাহতলী কামিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী, বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দীপঙ্কর দে, সহকারি শিক্ষক মো: নেছার আহমেদ খান, সহকারি লাইব্রেরিয়ান মাওলানা আব্দুল মান্নান, অফিস সহকারি মো: মামুন হোসেন।

উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ফলাফল প্রধান অতিথি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী’র নিকট হস্তান্তর করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাস।

বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বিতরণ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী’র নিকট হস্তান্তর করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাস। পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলাফল হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাস। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’