বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বঙ্গবন্ধুর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩, ৬:০০ পিএম
বঙ্গবন্ধুর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন
স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের নেতৃত্বে জাতীয়, দলীয় ও শোক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচী শুরু হয়। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
সকাল ৮টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ৩য় তলায় কোরআন খতম শেষে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি স্বাধীন মানচিত্র এনে দিয়েছেন। যেখানে সকল ধর্মের মানুষের সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি সেটি কখনোই চায়নি। তারা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। তারা স্বাধীন দেশকে আবার পিছিয়ে দিতে জাতির জনককে স্ব-পরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে তারা এদেশের স্বাধীনতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। একইভাবে ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র।
তিনি আরো বলেন, এখনো খন্দকার মোস্তাকের পরমাত্মারা আমাদের চারপাশে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃড় নেতৃত্বে বাংলাদেশে আজ উন্নত সমৃদ্ধ রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই সকল বিভাজন ভুলে চাঁদপুরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসীদের আওয়ামী লীগের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জি. আ. রবি ভূঁইয়া, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন বাবর।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি  আব্দুর রশিদ সর্দার, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্যাহ আখন্দ, দপ্তর সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিয়াজী, সদস্য অ্যাড. বদিউজ্জামাল কিরণ, জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক দেওয়ান, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রেনু বেগম, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সঠিক গাজী, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ শরীফ আহমেদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক রুবেল হাওলাদার ছিডু, সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল গাজী, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমন মজুমদারসহ জেলা, সদর উপজেলা ও শহর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
আলোচনা সভা শেষে শোক র‌্যালি নিয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসেনের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।
পরে বেলা ১১টার জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার ও অসহায় দুস্থ এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার ও অসহায় দুস্থ এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।