শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নানা আয়োজনে চাঁদপুরের রামপুর ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩, ৯:২১ পিএম
নানা আয়োজনে চাঁদপুরের রামপুর ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত
চাঁদপুর সদর উপজেলা ৫নং রামপুর ইউনিয়নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মির্জা মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন লিটু’র উপস্থাপনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ উপহার দেওয়ায় জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো। আমরা নৌকার বিজয়ের মিশন নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আর্দশের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণে নিরসলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো- এই হোক আমাদের শোক দিবসের অঙ্গীকার।
তিনি আরো বলেন, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি আপনাদের পাশে থাকতে পারি। আমি আপনাদের মেয়ে, আপনাদের বোন হিসেবে যাতে সকল অপশক্তি আপনাদেরকে সাথে নিয়ে সামলে নিতে পারি। এবং আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারি। আমি আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করি। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই। আমি ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের ত্রিশ লক্ষ শহীদ, জাতীয় চার নেতা ও পচাত্তরের আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সকল শহীদ সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবসের দোয়া ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৫নং রামপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মাহাবুবুর রহমান পাটওয়ারী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী, সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন জাকির পাটওয়ারী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইসমাইল মাষ্টার, সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন পলাশ পাটওয়ারী, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল বারাকাত মোঃ রেজওয়ান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর নবী সোহেল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য মোক্তার হোসেন মাস্টার।
এসময় চাঁদপুর পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সেলিম মাস্টার, সফিকুল ইসলাম, মমিনুল হক পাটওয়ারী, ইউপি সচিব মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান, ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিনা বেগম, সাধারণ সম্পাদক জুলেখা বেগম, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ আহসান হাবীব পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোহসিন খান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হোসেন, ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক রহিমা আক্তার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আল আমিন মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন মজুমদারসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ জাকারিয়া। পরে অতিথি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত লোকজনের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’