বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সন্তানদের বাধায় ১৬ ঘন্টা পর বৃদ্ধা মায়ের লাশ দাফন

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৩, ৯:২৮ পিএম
চাঁদপুরে সন্তানদের বাধায় ১৬ ঘন্টা পর বৃদ্ধা মায়ের লাশ দাফন
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারার জের ধরে দুই ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মরদেহ দাফন কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের হস্তক্ষেপে মৃত্যুর ১৬ ঘণ্টা পর লাশ রাতে দাফন করা হয়।
সোমবার (১৪ আগস্ট) চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ের ভাটেরগাঁও মজুমদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মৃত আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী আমেনা খাতুন (৮৫) বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার দুপুর ১টায় ঢাকার উত্তরায় এক ছেলের বাসায় মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর লাশ গ্রামের বাড়িতে এনে অন্য ভাইদের জানানো হলে তারা এসে মরদেহ রেখেই সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সন্তানরা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন। সম্পত্তির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ দাফনেও বাধা দেন নাকিবুল ইসলাম ও সৌদি প্রবাসী নজরুল ইসলাম দুই ভাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক ছেলে নাকিবুল ইসলাম জানান, আমাদের উত্তরার রাজউকের ৩নং সেক্টরে ৫ কাটা সম্পত্তি আমরা ৫ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে লিখে দেওয়ার কথা থাকলেও আমরা ছোট দুই ভাই তাদের নামে বাবার কাছ থেকে জোড় করে লিখে নিয়ে যান। এদিকে তার অন্য এক ভাই বলেন, আমার মা গত ১০ দিন যাবত উত্তরার ৭নং সেক্টরের হাই কেয়ার হাসপিটালের আইসিওতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগও ছিল না। আমার বড় ভাই নজরুল ইসলাম দীর্ঘ ৩৮ বছর সৌদি আরব ও নোকিবুল ইসলামও দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর যাবত দুবাই ছিলেন। আমার বাবা সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনও আমার মা দীর্ঘ ৩০ বছর আমার কাছেই ছিলেন। জীবদ্দশায় তারা দুই ভাই মায়ের কোন খোঁজ খবর রাখেন না। আজ আসছে সম্পত্তির ভাগাভাগি করতে।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহাগ পাটওয়ারী বলেন, এ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে যাই। তাদের জমি-জমার বিষয়টির সমাধান করে দেবো বলে আশ্বস্ত করি। তারপরও তারা লাশ দাফন করতে রাজি হয়না। ততক্ষণে মরদেহ দাফন করতে আসা আত্মীয় স্বজন ফিরে যান। রাত ৯টায় জানাজা হলেও সন্তানদের বাধায় মায়ের লাশ দাফন করা হয়নি দীর্ঘ ১৬ ঘন্টায়ও। মরদেহ থেকে গন্ধ বের হয়ে গেছে। থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এস আই লোকমান জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে এসে দেখি এই অবস্থা। সন্তানরা তাদের মায়ের লাশ কোন ভাবেই দাফন করতে দাবেন না। পরে জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে রাত ২ টায় তাদের পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।