শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র পরিচালনায় শাহতলীতে আ’লীগের মতবিনিময় সভা 

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৮:০৮ পিএম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র পরিচালনায় শাহতলীতে আ’লীগের মতবিনিময় সভা 
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড (শাহতলী) জিলানী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য, প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সভায় সভাপতিত্ব করেন, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সোহেল ক্বারী। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন এবং আমাদের জনগণের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন তাতে করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি যাকে নৌকার মনোনয়ন দিবেন আমরা তাকেই আমাদের এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত করবো ইনশাল্লাহ।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ কাসেম কারীর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হাজী। এসময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হান্নান খান মিলন, মাহফুজ খন্দকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজান হাওলাদার সাজু, আবু নোমান পাটোয়ারী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক তাজুল ইসলাম হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক মনির চৌধুরী, ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বিল্লাল খান, ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য বিলকিস সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম, ইকবাল খান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি লিপি বেগম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন আল হাসান, ওয়ার্ড প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রব মাষ্টার, মোস্তফা ভান্ডারী ও সাবেক উপজেলা যুবলীগ নেতা আঃ মালেক মুন্নাসহ উক্ত কেন্দ্রের আওতাধীন আওয়ামী অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ড (শাহতলী) জিলানী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রের আহবায়ক মোস্তফা মিজি, মামুন আল হাসান ও সদস্য সচিব সোহেল কারী, বিল্লাল হোসেন খান, মালেক হোসেন খানের নাম প্রস্তাব করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’