বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন (এলডিডিপি) প্রকল্প

মতলব উত্তরে ১২০ শেড নির্মাণে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

মতলব উত্তর ব্যুরো প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১১:১১ পিএম
মতলব উত্তরে ১২০ শেড নির্মাণে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন (এলডিডিপি) প্রকল্পের মেয়াদ আছে আর চার মাস।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে এলডিডিপি প্রকল্পের ডেমো (নমুনা) খামার নিয়ে চোখ পালানি খেলা শুরু হয়েছে।

সঠিক সময়ে কাজ বাস্তবায়ন হয়নি, মাত্র দু’একটা শেড দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সঠিকভাবে শেড নির্মাণ হয়নি, গ্রাহকদের একাউন্ট থেকে জোর করে টাকা নিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে শেড নির্মাণ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ওই প্রকল্পের সদস্য দুস্থ ও অসহায় খামারিরা প্রাণী সম্পদ অফিসের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংকের দেওয়া অর্থ দিয়ে মতলব উত্তর উপজেলায় ছাগল-ভেড়া ও পোল্ট্রি পালনের জন্য ১২০টি শেড নির্মাণ করে দেওয়া হবে এই প্রকল্পের খামারিদের।

Model Hospital

ছাগল ভেড়ার ঘরের আকার ১০০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য, পাশে ৮০ ইঞ্চি, মেঝে থেকে উচ্চতা ৫ ফুট এবং মাটি থেকে মেঝে ২ ফুট মটকা হবে। ঘরের বেড়া মেঝে থেকে দুই ফুট উচ্চ পর্যন্ত প্লেন ষ্টিল সিট দিয়ে চার পাশ ঘেরা থাকবে অবশিষ্ট অংশ মেহগিনি কাঠের বাটাম এবং প্লাস্টিক মোড়ানো জিআই তারের জালি দিয়ে ঘেরা থাকবে। আর পোল্ট্রি শেডের ক্ষেত্রে ৮০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য প্রস্থ হবে ৬০ ইঞ্চি, উচ্চতা মেঝে হতে ৪ ফুট প্রি কাস্ট সিমেন্টের ছয়কোনা খটি এবং ২ ফুট উঁচু মটকা হবে। মাটি হতে মেঝে ১ উঁচু থাকবে। ঘরের বেড়ােে মঝ থেকে ২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত প্লেস ষ্টিল সিট দিয়ে চার পাশ ঘেরা থাকবে, অবশিষ্ট অংশ মেহগিনি কাঠের বাটাম এবং ১৪ নম্বর গেজ জিআই তারের পাজি নয়ে ঘেরা থাকবে। ঘরে উটা নামার জন্য মেহগিনি কাঠের ২ ফুট চওড়া একটি রাম্প সংযুক্ত থাকবে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর উক্ত প্রকল্পের শেড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। ওখানে গিয়ে দেখা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী শেডগুলো নির্মাণ করা হয়নি। শেড তৈরিতে ডিজাইন অনুযায়ী মানসম্মত মালমাল ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি লোক দেখানের জন্য মাত্র দু’টি ঘর নির্মাণ করেই উদ্বোধন করা হয়েছে। শেড না বুঝিয়ে দিয়ে খামারিদের উপজেলা পরিষদে ডেকে আনার কারণে তারা চড়াও হয়েছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার উপর। চোখ পালানি খেলা হল, উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি খামারির ব্যাংক একাউন্টে।

বিশ্ব ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নিদির্ষ্ট ডিজাইনে খামারিরাই শেড তৈরি করবে। কিন্তু উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা খামারিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চেক এ স্বাক্ষর করিয়ে নিজেই ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। ১২০ টি শেড এর জন্য ২০ হাজার টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা গ্রাহদের চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেন তিনি। পরবর্তীতে তার পছন্দের দুই ব্যক্তি নিয়োগ করেন শেড তৈরির জন্য। সেখানেও শেড নির্মাণে তারা নিম্বমানের মালামাল দিয়েছেন। তবে শেড নির্মাণ কাজ কাগজপত্রে শেষ হলেও বাস্তবে মাত্র শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুর রহমান নুর এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এই কথা বলে তিনি এড়িয়ে যান।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, নিয়ম বহির্ভূত শেড নির্মাণের জন্য দুই ব্যক্তিকে নিয়োগ করেছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। ওই দুই ব্যক্তি হল উপজেলার ঢালীকান্দি গ্রামের মোঃ আমির হোসেন সিকাদর ও রাঢ়ীকান্দি গ্রামের মোঃ ওয়াছকুরুনী সরকার। এই দুই ব্যক্তির সাথে চুক্তি করা হলেও ওই শেডগুলো তারা নিমার্ণ করেন নি। জানা গেছে, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মুহাম্মদ জাকির হোসেনের নিকটাত্মীয় তৃতীয় শ্রেণীর এক সরকারি কর্মচারী (স্বাস্থ্য সহকারী) মোঃ শাহজালালকে দিয়ে শেডগুলো তৈরি করেছেন। এতে করে ক্ষিপ্ত হয়েছেন চুক্তিবদ্ধ ওই ব্যক্তিরাও। ঘটনার পিছনে এমন ঘটনাই উঠে এসেছে।

শেড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা ক্ষুদ্র অসহায় খামারি একাধিক নারী বলেন, আমাদের একাউন্টে সরকার ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছে, ছাগল-ভেড়া ও পোল্ট্রি পালনের শেড তৈরির জন্য। কিন্তু প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আমাদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চেক এ স্বাক্ষর করে তারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন। এবং বলেছেন সরকার নাকি তাদের দায়িত্ব দিয়েছে তারাই ঘর করে দিবে। আমরা বলেছি আমরাই ঘর নির্মাণ করবো, যদি ২০ হাজারের বেশি টাকাও লাগে আমরা ভালো করে করব। কিন্তু অফিসার তা মানেন নি। এখন এই ঘর নিয়ে আমরা ছাগল-ভেড়া এবং পোল্ট্রি পালন সম্ভব না, তাই এই ঘর আমরা নিব না।

এদিকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (অ.দা.) ডাঃ মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক অর্থ দিলেও আমাদের মাধ্যমে শেড তৈরি করার নিময় আছে। ঘর মানসম্মত করেই করা হয়েছে। প্রকল্পে কোন অনিয়ম হয়নি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।