বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিকাশ জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য আটক, স্থানীয় মীমাংসায় রফা-দফা

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১১:২৯ পিএম
শাহরাস্তিতে বিকাশ জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য আটক, স্থানীয় মীমাংসায় রফা-দফা

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কালীবাড়ি বাজারে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চক্রের মূলহোতা আবরার মাহির ওরফে সিমান্ত ও তার সহযোগী শাহেদ জনগণ কর্তৃক হাতে-নাতে আটক হয়।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টায় কালীবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী হায়দার টেলিকমের স্বত্বাধিকারী হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের সিমান্ত নামের ছেলেটি দোকানে মোটর সাইকেল থেকে নেমে আমাকে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলে। পাশে শাহেদ নামের ছেলেটি টাকা বাহির করতে করতে পাশের দোকানে সফট ড্রিংকস কিনার নাম করে সটকে পড়লে সীমান্ত নামের প্রতারক আমার দোকান থেকে লোকজন বেশি হওয়ার আস্তে করে সটকে পড়তে চাইলে আমার পাশ্ববর্তী দোকানদার বিষয়টি দেখে তাকে ডাক দেয়৷ সে দৌড় দিলে আমরা সীমান্ত ও শাহেদকে আটক করি।

আটকের পর তাদের কাছে নগদ ক্যাশ নাই বলে তারা মোবাইল ও মোটর-সাইকেল জিম্মা দিয়ে কিছুক্ষণ পর দিবে জানিয়ে সেখান থেকে সরে পড়ে।

Model Hospital

বিকেলে সীমান্ত’র মা দেবকরা স্কুলের শিক্ষিকা আমাকে ফোন দিয়ে ছেলের মোবাইল ও মোটরসাইকেল দিতে অনুরোধ করে। রাতে আমার পাওনা ১০ হাজার টাকা তিনি পৌঁছে দিবেন বলে জানান।

রাত ৮ টার দিকে স্থানীয় বাজারের পুরাতন একজন ব্যবসায়ী সীমান্ত ও শাহেদের জিম্মা নিয়ে আমার কাছে টাকা বুঝিয়ে দিয়ে মোটর সাইকেল ও মোবাইল নিয়ে চলে যায়। এই ছেলের সাথে আরও কয়েকজন জড়িত বলেও তিনি জানান।

হায়দার টেলিকমের পাশ্ববর্তী দোকানের কর্মচারী প্রিয় চাঁদপুর অনলাইন কে জানান, ঘটনার সময় আমি ফ্রি থাকায় হায়দারের সাথে কথোপকথনে ব্যস্ত ছিলাম। দোকানে আরও গ্রাহক চলে আসায়, সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা সটকে পড়তে চাইলে আমরা তাদের ২ জনকে ধরে ফেলি। পরে সময় নিয়ে তারা রাতে ১০ হাজার টাকা ফেরতও দেয়।

স্থানীয় ঠাকুরবাজারের কয়েকজন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, সীমান্ত সত্যিকারের প্রতারক। সে আমাদের থেকে একই কায়দায় টাকা নিয়ে ফেরত দিতে টাল বাহানা করে। অথচ স্থানীয় ছেলে হিসেবে আমরা তাকে চিনি বিধায় বিকাশ করে দিয়ে বিপদে আছি। আমরাও আমাদের টাকা ফেরত চাই।

স্থানীয় দোকানদাররা জানান, প্রতারক চক্রের ২ জন, প্রতিবার ধরা খেলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে পার পেয়ে যায়। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়া স্বত্বেও এরকম জঘন্য কাজে কিভাবে সম্পৃক্ত হয়, তা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে পুরো বাজার জুড়ে।

প্রতারক চক্রের মূলহতা সীমান্তকে ঘটনার সত্যতা ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রতিবেদককে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করে।

এলাকাবাসী ছেলেগুলোর ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেন, ছেলেগুলো মাদকাসক্ত বা মাদক বিক্রি সাথে জড়িত বলে আমরা জানি। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত এসব ছেলেরা সমাজের বিষফোঁড়া। তাদেরকে নির্মূল না করতে পারলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে বলেও জানান তারা।

প্রতারক সীমান্তের মা ছেলের অপকর্মের বিষয়ে জানান, ছেলে ভুল করতেই পারে। আমরা তাকে শাসন করছি, তবে বিপথে চলে যাওয়ায় আমরা তাকে ফেরাতে পারছি না।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।