শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মূল্য ৬ লাখ টাকা

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:১১ পিএম
ফরিদগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মূল্য ৬ লাখ টাকা

ফরিদগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা। সালিসি বৈঠকে ওই টাকা লেনদেন হয়েছে। টাকার বিনিময়ে ফৌজদারী ও গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে । বৈঠকে হুমাইয়ুন পাটওয়ারী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু পাটওয়ারী, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের অভিভাবকসহ বাড়ির লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার গোবিন্দপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়নে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে জুলাই মাসে। সালিসি বৈঠক হয়েছে কয়েকদিন আগে।

সরেজমিন জানা গেছে, গ্রামের মাতৃহীন কিশোরী কন্যা (১৬)। আচার আচরণে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বলে দাবী করছেন কিশোরীর বাবা। তার জন্মদাত্রী মা নেই। বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। বাড়ির লোকজনের দাবী কিশোরী অনেকাংশে অযত্নে থাকে। বাড়িতে এঘরে ওঘরে ঘোরাফেরা করে। এরই মধ্যে ২রা জুলাই তাকে নজির পাটওয়ারীর গরুর খামারে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সালাউদ্দিন (২৫)। খামারের একটি ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য কিশোরীকে ফুসলিয়ে দেয় সালাউদ্দিন। ঘরে ফিরে কিশোরী তার মাকে জানিয়ে দেয়। এতে, এককান দুকান হয়ে ৫-ই জুলাই সারা বাড়ি খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিশোরীকে নানাজনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে, সে জানায় সালাউদ্দিন ছাড়াও একই বাড়ির সুজন তাকে ধর্ষণ করেছে। ঘটনা চাপা রেখে গোপনে দেন-দরবার চলে।

বৃহস্পতিবার বিকালে কথা হয় কিশোরীর বাবা, মা ও অন্যান্যদের সঙ্গে। নিকটাত্মীয় কনস্টেবল মালেক পাটওয়ারীসহ থানায় অভিযোগের দাবী করলেও কিশোরীর বাবা কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তিনি জানান, আশ^াস দেয়া হয়েছিল সুজনের সাথে তার বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

Model Hospital

অন্যতম নীতি নির্ধারক হুমাইয়ুন পাটওয়ারী ঢাকা থেকে ফেরার পর মিলন পাটওয়ারীর বসত ঘরে বৈঠক বসে। এতে, হুমাইয়ুন পাটওয়ারীসহ উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আবু পাটওয়ারী, কিশোরীর বাবা, পুলিশের কনস্টেবল (বর্তমানে এলপিআর ভোগ করছেন) আবদুল মালেক, গরুর খামারের মালিক নজির পাটওয়ারী, অভিযুক্ত সালাউদ্দিন ও সুজনের বাবাসহ বাড়ির অন্যান্যরা। নজির পাটওয়ারী স্বীকার করে বলেন, আমার খামারে সিসি ক্যামেরা আছে। খামারের একটি ঘরে সালাউদ্দিন ও কিশোরী ঢোকার ভিডিও চিত্র দেখা গেছে। তারা অনেকটা সময় ঘরের ভিতরে ছিল। বৈঠকে, অভিযুক্তরা দোষী হিসেবে তাদের বাবা স্বীকার করেন। কিন্তু, তাদের কেউই কিশোরীকে বিয়ে করবে না। তবে, আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে, দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় অভিযুক্ত সালাউদ্দিন ও সুজনের অভিভাবক তিন লাখ করে ছয় লাখ টাকা কিশোরীর বাবাকে নগদ প্রদান করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বলা হলে কিশোরীর বাবাসহ কনস্টেবল মেনে নেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিশোরীর বাবাকে ছয় লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে, ধর্ষণের অভিযোগ ও ছয় লাখ টাকা পাওয়ার তথ্য স্বীকার করেন কিশোরীর বাবা। তিনি বলেন, ছয় লাখ টাকা সম্পূর্ণ ব্যাংকে রেখেছি। সালিসি বৈঠকে কারা ছিল জানতে চাইলে তিনি উল্লেখিত লোকজনের নাম বলেন।

সালাউদ্দিনের বাবা মিজানুর রহমান ছয় লাখ টাকায় মিমাংসার তথ্য স্বীকার করে বলেন, বৈঠকে সালাউদ্দিন ও সুজন উপস্থিত ছিল না।

তিনি জানান, সালাউদ্দিন বিবাহিত, তার একজন সন্তান রয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগ ছয় লাখ টাকায় মিমাংসা হইছে স্বীকার করে হুমাইয়ুন পটওয়ারী বলেন, টাকা লেনদেনসহ স্টাম্প রাখা হইছে। ধর্ষণের বিচার করা আইনত নিষেধ আছে। এমন মন্তব্য করার পর তিনি এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনি আমাকে চেনেন। আমি এতো কথা টেলিফোনে বলতে পারবো না। ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে (…কে) দিয়া আপনাকে ডাকাবো, তারপর কথা বলবো।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু পাটওয়ারী বলেছেন, বৈঠকে ওরা ঝগড়া লাইগা গেছে দেইখা আমি চইলা আইছি। তবে, ছয় লাখ টাকা জরিমানার রায় ও বিয়ের প্রস্তাবের তথ্য তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এরপর কি হইছে আমি জানি না। অন্যরা বলেছে, আপনার উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ সমাধান হয়েছে। এমন প্রশ্নে তিনি নিরব থাকেন।

এ ব্যপারে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, এমন ঠিকানা থেকে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। ধর্ষণের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইনত ধর্ষণের সালিস করতে পারে না।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital