বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিভাগীয় মামলা

চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক দিদারুল আলমকে জামালপুরে বদলি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৩, ১:০৫ এম
চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক দিদারুল আলমকে জামালপুরে বদলি

প্রবাদে আছে সরিষার ভিতর রয়েছে ভূত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক যখন মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে কিভাবে মাদক নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রেতাদের সহযোগিতা করার কারণে তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন নিম্নস্ত কর্মকর্তারা।

ঢাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেসন্স) এর বরাবর অভিযোগটি প্রেরণ করা হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুজন আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে ও তাকে জামালপুর বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Model Hospital

মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত তিনি সর্বশেষ তার কার্জালয়ে অফিস শেষ করে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সরকারি পরিচালক এ টি এম দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে এর পূর্বে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় আরেকটি অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত টিম গঠন করার পর তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩ই সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ পিয়ার হোসেন একটি গোপন সংবাদ পেয়ে পরিদর্শক এর মাধ্যমে সহকারী পরিচালক এটিএম দিদারুল আলমকে অবহিত করেন।

পূর্বের সংবাদটি পড়ুন…  চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তা মাদক বেচাকেনায় জড়িত

পরবর্তীতে সহকারী পরিচালকের নির্দেশনায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এ. আর. এম. জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়, চাঁদপুর এর সকল স্টাফ সহ মোবাইলকোর্ট অভিযান পরিচালনা করিয়া চাঁদপুর থানাধীন উত্তর শ্রীরামদীর জামতলা এলাকায় মাদকব্যবসায়ী মো: রিপন ঢালী (৩২) এর নিজ দখলীয় বসতঘরে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনরত অবস্থায় ০৩ (তিন) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অতঃপর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের উপস্থিতিতে জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি পরিদর্শক কর্তৃক ওয়াকিটকির মাধ্যমে সহকারী পরিচালক মহোদয়কে অবহিত করা হইলে তিনি ওয়াকিটকিতে আসামী মো: রিপন ঢালীকে মাত্র ০৩ (তিন) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ কেন আটক করা হল ক্ষিপ্ত হইয়া তার ব্যাখ্যা জানতে চান ও আসামী রিপন ঢালীকে তার সোর্স বলে দাবি করেন আমরা সকলে অনেক বেড়ে গেছি ও আমাদেরকে দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন। কিছু সময় পর তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের সম্মুখে আমাদেরকে ধমক দিয়ে বলেন যে, ০৩ পিস ইয়াবা কোন মাদক হলো? তোমরা অনেক বেড়ে গিয়াছ ও তোমাদেরকে আমি দেখে নেব বলে হুমকি দেন। তখনই বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় সহকারী পরিচালককে বলেন যে, “আপনি মোবাইল কোর্ট চলাকালীন কেন আসামীর পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন।” এ ধরনের আচরণের জন্য বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় তাৎক্ষনিক তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় আসামী রিপন ঢালীকে ০৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১০০/- টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। আসামীর নিকট ১৫০/- টাকা থাকা সত্ত্বেও জরিমানার ১০০/- টাকা অর্থদন্ড সহকারী পরিচালক একেএম দিদারুল আলম বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের সম্মুখে নিজ পকেট হইতে প্রদান করেন। এ ধরনের কার্যকলাপে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে । আসামী মোঃ রিপন ঢালীর (৩২) বিরুদ্ধে মাদকের ও পেনাল কোডের ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে ।

তাছাড়া গত ৫ মে সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে চাঁদপুর শহরের ইয়াবার গডফাদার মোঃ শাহজাহান প্রঃ বাঘ শাহজাহান এর বসতঘরে ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলেও অদৃশ্য কারণে সহকারী পরিচালক মহোদয় উক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও তাহার স্ত্রীর সাথে কিছু সময় একান্ত কথা বলার পরে আমাদেরকে উক্ত বসতঘর তল্লাশী না করার জন্য নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে সহকারী পরিচালক মহোদয় মোঃ শাহজাহান প্রঃ বাঘ শাহজাহান ও তাহার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আগামীকাল সকাল ১১ টায় অফিসে দেখা করার নিদের্শ দিয়ে অফিসের অননান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরের দিন মাদক ব্যবসায়ী ও তাহার স্ত্রী সহ সহকারী পরিচালক মহোদয়ে অফিস রুমে একান্ত সাক্ষাত করেন। তাছাড়া প্রতিনিয়ত অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং সকলকে জিম্মি করে রাখেন। এমন অবস্থায় একদিকে অফিসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং সকলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অন্য দিকে সকল মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সহকারী পরিচালক এ কে এম দিদারুল আলমের সখ্যতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনায় বিঘ্ন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সহকারী পরিচালকের সাথে চাকুরী করতে সকলে অনীহা প্রকাশ করেছে। এমতাবস্থায়, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সহকারী পরিচালকের জিম্মি দশা হতে মুক্তি ও সহকারী পরিচালক এ. কে. এম দিদারুল আলম কর্তৃক সকলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চাকরিচ্যুতির হুমকির প্রতিকার চেয়ে মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং সকলকে অন্যত্র বদলী করার জন্য আবেদন করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কে কে এম দিদার লালনের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছেন তারা হলেন,সেন্টু রঞ্জন নাথ (পরিদর্শক), মোহাম্মদ পিয়ার হোসেন (এস আই) দুপিয়ার হোসেন মোহাম্মদ,মোঃ সাইফুল ইসলাম, (এ এস আই) , মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, (সিপাই ) মোঃ হাবিবুল্লাহ,সাজ্জাদ হোসেন (সিপাই) সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ শরীফুল ইসলাম (সিপাই) মোঃ শরীফুল ইসলাম,মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (ওয়্যারলেস অপারেটর) (মা: সানাওয়াত হোসেন, মোঃ ওমর ফারুক রাজন (গাড়ী চালক) মোঃওমর ফারুক রাজন

অভিযোগের বিষয়ে চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সরকারি পরিচালক একেএম দিদারুল আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটি করেছে।তারা নিজেরাই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক করায় মাদক নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না তাই তাদেরকে সতর্ক করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এটি করেছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।