শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে চাঁদপুরে ইসলামী আন্দোলনের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

তফসিল ঘোষণার পূর্বে অবৈধ সংসদ ভেঙে না দিলে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে : মাওলানা আতাউর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:০৭ পিএম
তফসিল ঘোষণার পূর্বে অবৈধ সংসদ ভেঙে না দিলে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে : মাওলানা আতাউর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে শকুনের নজর পড়েছে। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সেই শকুনদের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত। কিন্তু সরকারকে মনে রাখতে হবে বিদেশীদের মনোরঞ্জন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। দেশ বাঁচাতে আওয়ামী হায়েনাদের পতন ঘটাতে হবে। ২০১৪ ও ১৮ সালের মতো যেন তেনভাবে কোনো নির্বাচন আয়োজন দেশবাসি রুখে দেবে।
তিনি আরও বলেন, দখলদার সরকার গণমানুষের সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতে করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচন অতীতে হয়নি ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে যেন তেন নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হলে দেশ অনিবার্য সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে। দেশে নতুন করে সংঘাত সংঘর্ষ, ও সংকট তৈরি হোক এটি আমরা চাই না।
অনিবার্য সংঘাত এড়াতে সরকারকে দ্রুত পদত্যাগের ঘোষণা দিতে হবে।
সরকার সসম্মানে পদত্যাগ না করলে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। গোটা জাতি আজ গণঅভ্যুত্থানের অপেক্ষায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশ ধ্বংস করে ফেলেছে।  দেশের বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের স্বাধীন সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে। এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না। আমরা দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে গণমানুষকে মুক্ত করতে চাই।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি একজন সিটিজেন মহিলা, একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং বয়োবৃদ্ধ মানুষ। নাগরিক হিসেবে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবার অধিকার রয়েছে। সরকার তার চিকিৎসা না দিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় আওয়ামী লীগ ও সরকারকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলছে “তলে তলে সব ফায়সালা হয়ে গেছে”। আসলে তলে তলে দেশ বিদেশের সকল শক্তিই এখন তলে তলে আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গেছে চলে যাচ্ছে। দিল্লির গোলামি করে  এদেশে কাউকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ দিশেহারা। সরকারের দায়িত্বশীল, মন্ত্রী-এমপিরাই এসবের জন্য দায়ী। টোটাল বাজারব্যবস্থাকে আজ সিন্ডিকেটে আবদ্ধ করে ফেলেছে সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা গুন্ডাপান্ডারা।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহ, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. বেলাল নূর আজিজী, কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক শায়খুল হাদিস আল্লামা মকবুল হোসাইন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান।
জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিনের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদসানী, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম নিজামের যৌথ পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, নির্বাহী সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন, মাওলানা হেলাল আহমাদ, আলহাজ মামুনুর রশিদ বেলাল, যুবনেতা মাওলানা ইমরান হোসাইন, ছাত্রনেতা সেলিম হোসাইন প্রমুখ।
বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, অথর্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন বাতিল,
সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন [pr] পদ্ধতি প্রবর্তন এবং দ্রব্যমূল্যের চরম উর্ধ্বগতি রোধ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আজ ৬ অক্টোবর ২০২৩ চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাইস্কুল মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, এদেশে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়েছে তারা সকলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন ছাড়া জাতিকে তারা কিছুই উপহার দিতে পারেনি।
বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের টাকা বিদেশে পাচার করার মহোৎসবে মেতে ওঠেছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির নামে আজ দেশে চলছে দুর্নীতি, লুটপাট ও দেশের টাকা বিদেশে পাচার। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫২ বছরেও মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। মানুষ এখন বিকল্প চায়। আগামিতে ইসলামই হবে এদেশের মূল শক্তি।
উল্লেখ্য প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিকেল ৩টার মধ্যেই হাসান আলী হাইস্কুল মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বিকেল ৩টার পূর্বেই চাঁদপুর শহর মিছিলের শহরে পরিণত হয়। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চাঁদপুর শহর।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।