বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ৬১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ‘বাড়তি বোঝা’

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:২০ পিএম
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ‘বাড়তি বোঝা’

মতলব উত্তর উপজেলার ১৮০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩৫ শিক্ষকের পদ শূন্য। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে প্রায় ৬১টি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা (রাজস্ব খাত ও জাতীয়করণ ঘোষিত মিলে) ১৮০টি। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৬১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। একই সঙ্গে এসব বিদ্যালয়ে ৭৪টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকেরা।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব তাঁদের কাছে বাড়তি বোঝা। তাঁদের অভিযোগ, সব সময় তাঁদের দাপ্তরিক কাজে নানা তথ্য দিতে এবং উপজেলা পর্যায়ে সভায় যোগ দিতে ছোটাছুটি করতে হয়। অথচ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারিভাবে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না।

Model Hospital

আবার যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে, সেসব বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ সামলানোর পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা দেখাসহ নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁঞা অবসরে গেলে এই পদটি শূণ্য হয়। এরপর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ১৮০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে।

এই বিদ্যালয় গুলোতে সহকারীরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে দীর্ঘদিন ধরে। কোন কোন বিদ্যালয়ে প্রায় এক যুগ পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ হয়নি। তবে শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অভিভাবক নাছির উদ্দিন, হাসান আলী, একরামুল ইসলাম, আজিজার রহমানসহ অনেকে অভিভাবকরা বলেন, শিশুদের লেখাপড়া শেখার জন্য প্রথম ধাপ প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু উপজেলার বেশ কিছু বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় কিছু শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় অনেক বিদ্যলায় পাঠদানের সুনাম হারাতে বসেছে। যার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের প্রাইভেট স্কুলগুলোতে ভর্তি করে দেয়। এমনকি প্রধান শিক্ষক না থাকায় ওই সব স্কুলগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে সুষ্ঠু পরিবেশ ভেঙে পড়ে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কর্মক্রম।

আরও অনেক অভিভাবকরা জানান, উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষাদান ও সুষ্ঠু পাঠদানের পরিবেশ ফিবিয়ে আনতে হলে প্রধান শিক্ষকবিহীন এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। আর তা না হলে দিন দিন উপজেলার প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, যখন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন শিক্ষক সংকট রেখেই কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রদান করেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের কাঁধেই ভারপ্রাপ্তের ভার পড়ছে। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা সরকারি তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না।

অন্যদিকে অফিসের বিভিন্ন নিদের্শনা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্তদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। এতে বিদ্যালয়ে পাঠদানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কয়েকবার প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোর তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চালানো হচ্ছে বিদ্যালয়গুলো।

তবে তিনি দাবি করেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের নজরদারি থাকায় প্রধান শিক্ষকবিহীন ওইসব বিদ্যালয়ে পাঠদানের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital