শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনার আমলে কচুয়ায় সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে : ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:৪৯ পিএম
শেখ হাসিনার আমলে কচুয়ায় সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে : ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি

শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকায় কচুয়া অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রার্থী হিসেবে আমাকে নৌকা মার্কা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

কচুয়া সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কচুয়া সাচার-গৌরিপুর সড়ক দুই লেন থেকে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এর অল্প কিছু দিনের মধ্যে সড়কের কাজ করা হবে। ৪ লেন সড়ক উন্নীত হলে কচুয়া হবে এই অঞ্চলে বানিজ্যক কেন্দ্র। আপনারা শেখ হাসিনার পাশে থাকেন,আমি আপনাদের পাশে আছি।

তিনি গতকাল শনিবার বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যলয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড.মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে ও যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক মো.কবির হোসেনের যৌথ পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম খোকা,উপজেলা প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা খানম,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার জাবের মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদ দর্জি, কামরুন নাহার,পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন ভূইঁয়া,বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন সিকদার, সাচার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্নত আলী তালুকদার,বিতারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহাগ খান,পালাখাল মডেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.ইমাম হোসেন,সদর ইউনিয়ণ আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.লিটন মুন্সি,সাধারণ সম্পাদক শাহদাৎ হোসেন,কাদলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মো.জাহাঙ্গীর আলম,সাধারন সম্পাদক আবুল হাছানাত ফরহাদ,কড়ইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু বকর মিয়াজী,সাংগঠনিক সম্পাদক জিসান পাটওয়ারী,আওয়ামী লীগ নেতা ডা.নিজাম,উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর কামাল হোসেন অন্তর, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহসান হাবীব পাঞ্জল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন টিটু,কচুয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.জাকির হোসেন বাটা,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম খলিল বাদল,যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মেহেদী হাসান বিএসসি প্রমুখ।

Model Hospital

এসময় উপজেলার আওমামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃনমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’