শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে প্রতিরোধে মাঠে চাঁদপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩, ৫:০৭ পিএম
বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে প্রতিরোধে মাঠে চাঁদপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা
জনগণের জানমাল রক্ষায় বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধ, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাজপথে অবস্থান নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করছে চাঁদপুরের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিনদিনের অবরোধের প্রথম দিন চাঁদপুরের রাজপথ মূলত দখলে রেখেছে তারা।শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির বাসভবন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়েও মিছিল সমাবেশ করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
অবরোধের প্রথম দিন সকালে নেতাকর্মীরা শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
এদিকে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চাঁদপুর জেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং যে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রুখতে তারা মাঠে আছেন। সতর্ক পাহারারা পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। অবরোধের প্রতিবাদে ‘শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার’ বলে স্লোগান দিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। তারা অভিযোগ করে বলেন, অবরোধ দিয়ে বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। অবরোধ চলাকালে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
নেতারা আরও বলেন, অবরোধ দিয়ে বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। অবরোধ চলাকালে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন তারা।
এদিকে বিএনপির ডাকা তিন দিনের অবরোধকে ঘিরে যে কোনো ধরণের অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে চাঁদপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি।
বিএনপি-জামায়াতের তিনদিনের অবরোধ প্রতিরোধের প্রথম দিন সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমনের নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সদস্য অ্যাড. কবির হোসেন চৌধুরীসহ যুবলীগ ছাত্রলীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী, অ্যাড মজিবুর রহমান ভূইয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক অ‌্যাড‌. রন‌জিত রায় চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল, সদস্য আলমগীর হোসেন ভূইয়া, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ রহমান টুটুল, মোহাম্মদ আলী মাঝি, ঝন্টু দাস, সদস্য মাইনুল ইসলাম, আব্দুল গনি গাজী, নজরুল ইসলাম বাদল, মকবুল হোসেন মিয়াজী, জিয়াউল আমিন দিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাড.  হেলাল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ফেরদাউস মোর্শেদ জুয়েল, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক শেখ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন বাবু পাটওয়ারী, সদস্য অ্যাড কবির হোসেন চৌধুরীর, রাজেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি,শেখ মোঃ মোতালেব, আতাউর রহমান পারভেজ, কাউন্সিলর মুহাম্মদ সোহেল রানা, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড, হুমায়ুন কবির সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক সিমুম হাসান সামনু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি পাল, জেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জহির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’